বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
শার্শার বাগআঁচড়ার কিবরিয়া ফিলিং স্টেশনের জমির জাল দলিল করে দখল চেষ্টার মামলায় প্রতারক আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন যশোরের একটি আদালত।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার ৭ মামলার আসামি এবং বিএনপি থেকে বহিস্কৃত। মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম এ আদেশ দেন।
আসামি আনোয়ার হোসেন শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, শার্শা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের গোলাম কিবরিয়া ১৯৯৫ সালের ২২ জুন ৫২১৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া মৌজার ১২৮ নম্বর জেএলভুক্ত সাবেক ২৮৬৫ ও হাল ৩৩৭৪ নম্বর দাগে ১৭ শতক জমি ক্রয় করেন।
পরবর্তীতে নামজারি করে ‘কিবরিয়া ফিলিং স্টেশন’ স্থাপন করে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তা ভোগদখল করে আসছেন।
গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর পর ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বিকেলে আনোয়ার হোসেন ১৯৯৯ সালের ৬ এপ্রিলের ১৯১১/৯৯ নম্বর একটি দলিল দেখিয়ে দাবি করেন, ওই জমি তার কাছে বিক্রি করেছেন গোলাম কিবরিয়া তাই জমির মালিক তিনিই। মরহুম গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা দলিলটি যাচাই করতে রেজিস্ট্রি অফিসে গেলে দলিল নম্বরের সঙ্গে দাতা ও গ্রহীতার তথ্যের অমিল পান।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল বিকেলে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আনোয়ার হোসেনকে জমির দলিলের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং হুমকি দিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় মরহুম গোলাম কিবরিয়ার মেয়ে তনিমা তাসনুভা ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল দলিল জালিয়াতির অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে আদালতে মামলা করেন।
আদালতের আদেশে ডিবি পুলিশের এসআই কামরুজ্জামান মামলা তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আনোয়ার হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালতের তৎকালীন বিচারক আসামি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সমন জারির আদেশ দিয়েছিলেন।
নির্ধারিত দিনে আনোয়ার হোসেন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেয়া হয়। ২০ জুলাই পলাতক আনোয়ার হোসেন গ্রেপ্তার এড়াতে আদালতে হাজির হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। মঙ্গলবার আনোয়ার হোসেন আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
