বাংলার ভোর ডেস্ক
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে রেললাইনে অসচেতনতা ও পৃথক দুর্ঘটনায় দুটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর এবং যশোরের অভয়নগরে পৃথক ট্রেন দুর্ঘটনায় এক প্রাইভেট শিক্ষক ও এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন।
কোটচাঁদপুরে ট্রেনে কেটে প্রাইভেট শিক্ষকের মৃত্যু
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে বড় বামনদাহ ও রাঙ্গিয়ারপোতা মাঠের মাঝামাঝি এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে বিপুল কুমার ঘোষ (৩০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত বিপুল যশোর সদর উপজেলার তেজরোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন প্রাইভেট শিক্ষক এবং ব্যক্তিজীবনে নিঃসন্তান ছিলেন বলে জানা গেছে।
কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন মাস্টার রিপন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খুলনাগামী ‘রূপসা এক্সপ্রেস’ (ট্রেন নং-৭২৮) ঘটনাস্থল অতিক্রম করার সময় বিপুল কুমার ঘোষ ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক আলামত ও পরিস্থিতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে এটি আত্মহত্যা হতে পারে। এ ঘটনায় রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অভয়নগরে ট্রেনের ধাক্কায় মাদ্রাসা ছাত্র নিহত
এই ঘটনার ঠিক আধা ঘণ্টা পর, বিকেল আনুমানিক ৬টার দিকে যশোরের অভয়নগরে অপর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় হোসাইন (২০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়েছেন। নিহত হোসাইন মনিরামপুর থানার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা। সে স্থানীয় সরদার মিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নওয়াপাড়া পৌরসভার ভাঙ্গাগেট বাজার সংলগ্ন যশোর-খুলনা মহাসড়কের রহমত ওয়েব্রিজের বিপরীতে রেললাইনের পাশে হোসাইনকে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় খুলনাগামী ‘মহানন্দা এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি সামনে থেকে তাকে ধাক্কা দিলে সে গুরুতর জখম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, অন্যমনস্ক হয়ে রেললাইনের পাশ দিয়ে হাঁটার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় হোসাইনকে উদ্ধার করে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নওয়াপাড়া স্টেশন মাস্টার মিন্টু কুমার রায় জানান, বিষয়টি রেলওয়ে পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। স্থানীয় থানা পুলিশও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রেলওয়ে পুলিশের আইনগত প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি চলছিল।
বিকেলের আলো ফুরিয়ে আসার আগেই পরপর দুটি মৃত্যুর খবর দুই নিহতের পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

