বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের দোরাস্তা মোড়ে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় করা মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। একই ঘটনায় জড়িত থাকার পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার চারজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযোগপত্রভুক্ত ছয় আসামি হলেন, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ চেচরি রামপুর গ্রামের আলী হোসেন ওরফে বাবু মৃধা, বর্তমানে চট্টগ্রামের আকবর শাহ থানা এলাকার বাসিন্দা, খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার মাসুম সরদার, নাজিরঘাট মেইন রোড এলাকার আকরাম ওরফে আসলাম ওরফে আরমান, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার মহিষাকান্দি গ্রামের জাহিদুল ইসলাম রাজু ওরফে রাজিউজ্জামান রাজু ওরফে রিপন ইসলাম ওরফে গলাকাটা রাজু, খুলনার রূপসা স্ট্যান্ড রোডের চানমারী এলাকার আব্দুল্লাহ ওরফে আফিল গাজী এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের আলমাছ দেওয়ান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির ভিতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বলতে দেখে হাবিবুর রহমানের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তিনি ঘরের মধ্যে তিন থেকে চারজন মুখোশধারী ব্যক্তিকে দেখতে পান। দুর্বৃত্তরা নিজেদের ডাকাত পরিচয় দিয়ে চিৎকার করলে প্রাণনাশ ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ডাকাতরা পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেয়। একপর্যায়ে হাবিবুর রহমানের চোখ ও হাত বেঁধে ঘরের আলমারি থেকে নগদ দুই লাখ টাকা এবং ১০ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে পালিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনায় ছয় থেকে সাতজন অংশ নিয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরদিন ৫ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন হাবিবুর রহমান।
পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, তদন্তকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেয়া তথ্য, সাক্ষীদের বক্তব্য ও সংগৃহীত অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ছয়জনের বিরুদ্ধে ডাকাতিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তদন্তে ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় রুবেল ফারাজী, কামরুল ইসলাম, সোহেল, আবিদ ইসলাম ও জাহিদ হাসানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ছয় আসামির মধ্যে আকরাম, জাহিদুল ইসলাম রাজু, আব্দুল্লাহ ও আলমাছ দেওয়ান পলাতক রয়েছেন।
তবে অভিযোগপত্র দাখিলের অর্থ আসামিদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।
