নিজস্ব প্রতিবেদক, ডুমুরিয়া :
ডুমুরিয়ায় নদী খনন প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৯টি পরিবারকে রক্ষায় তৎপর হয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি থেকে মাটি অপসারণ ও মেরামত কাজ শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে ভদ্রা নদীর তীরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় ভূমিহীনদের জন্য ১৪৫টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে দুই শতক জমিসহ একটি করে বাড়ি প্রদান করা হয়। বর্তমানে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে আপার ভদ্রাসহ ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তবে ভদ্রা নদী খননের নকশা অনুযায়ী আশ্রয়ণ প্রকল্পের কিছু ঘর নদীর সীমানার মধ্যে পড়ে যায়।
কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি নদী খননের কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। এ প্রকল্পের কাজ চলাকালে সম্প্রতি কুলবাড়িয়া-বরাতিয়া এলাকার ১৯টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে বরাতিয়া এলাকায় ১৩টি এবং কাঁঠালতলা এলাকায় ৬টি ঘর রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত ঠিকাদার খনন কাজের সময় এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে উত্তোলিত মাটি ক্ষতিগ্রস্ত ঘরগুলোর ওপর ফেলে দেয়। এতে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়ে এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে থাকে।
বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত মাটি অপসারণের উদ্যোগ নেন। এছাড়া ঘরগুলোর ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের নির্দেশনা দেয়া হয়। বর্তমানে এক্সক্যাভেটর ও ডাম্প ট্রাকের মাধ্যমে মাটি অপসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
এদিকে বিষয়টি পরিদর্শন করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খোন্দকার আজিম আহমেদ।
পাউবোর যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, “আমি নিয়মিত প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করি। ১৩ জুন পরিদর্শনের সময় সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। পরদিন গিয়ে দেখি ঘরগুলোর ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত মাটি অপসারণের ব্যবস্থা নেয়া হয়। সচিব মহোদয়ের নির্দেশনায় আমি নিজে উপস্থিত থেকে মাটি অপসারণ ও ঘর মেরামতের কাজ তদারকি করছি।”
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, “ঘরগুলোর ওপর মাটি ফেলার বিষয়টি আমাকে আগে জানানো হয়নি। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত সচিব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। আশা করছি, দুই-এক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”
চুকনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকটি পরিবারের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, তাদের জন্য বিকল্প স্থানে ঘরের ব্যবস্থা করা হলেও তারা সেখানে যেতে আগ্রহী হননি। তবে তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা রয়েছে।

