বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেছেন, একসময় যশোর সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে পরিচিত হলেও মূলত এটি সাহিত্য ও সংস্কৃতির শহর। তাই এই শহরকে ইতিবাচক ধারায় এগিয়ে নিতে তরুণদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের হাতে ভালো কিছু তুলে দিতে না পারলে তারা বিপথগামী হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
শনিবার বিকেল ৪ টায় শহরের আর এন রোড ক্রীড়াচক্র মাঠে নান্নু চৌধুরী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট আয়েজিত ২০২৬ সালের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা নান্নু চৌধুরী অবিবাহিত ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি তার সব সম্পত্তি সঠিক মানুষের হাতে অর্পণ করে গেছেন। ট্রাস্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার নিষ্ঠার সাঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ছোট ছোট সামাজিক উদ্যোগই একদিন বড় পরিবর্তনের ভিত্তি গড়ে তোলে। অর্থের পরিমাণ হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু এর মাধ্যমে সমাজের বিত্তবানরা তাদের সামাজিক দায়িত্ব পালন করছেন।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি সবসময় শিক্ষা বিস্তার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। আর এন রোড এলাকায় যশোর কলেজ ও সন্দীপন স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এ অঞ্চলে ১১টি বেসরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পেছনেও তাদের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, একা কেউ সমাজ বদলাতে পারে না, সামাজিক বন্ধনের মাধ্যমেই পরিবর্তন করা সম্ভব। এ জন্য সমাজের বিত্তবানদের আরও এগিয়ে আসার আহবানও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শহীদ আনোয়ার। বক্তব্য রাখেন ট্রাস্টের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাতা নান্নু চৌধুরী জীবদ্দশাতেই ট্রাস্টটি গঠন করেছিলেন।
সেই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সাল থেকে প্রতিবছর নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তবে ইসলামী ব্যাংকের কিছু প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতার কারণে এ বছর প্রত্যাশার তুলনায় কমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে ট্রাস্টের সদস্য চৌধুরী মাহমুদ রেজা ও গোলাম ফারুক লিটন বক্তব্য রাখেন। সম্মানিত অতিথি ছিলেন আর এন ক্রীড়াচক্রের সভাপতি মোস্তফা গোলাম কাদের, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক খান মোহাম্মদ শফিক রতন, সহসভাপতি এজাজ উদ্দীন টিপু, সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এ বছর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) পর্যায় পর্যন্ত অস্বচ্ছল পরিবারের ৬৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে শ্রেণিভেদে জনপ্রতি ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ ও সনদ তুলে দেন।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা জানান, এই সহায়তা তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

