বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেই তিন কোটি টাকার মূল্যের জমি ফের দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শহরের ঘোপ জেলরোড এলাকায় ওই জমি থেকে আদালতে টাঙানো সাইনবোর্ড চুরি করে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষরা।
এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন জমি মালিক ফজলে রাব্বী। যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকার ফজলে রাব্বী জানান, যশোর কোতোয়ালি থানার ৯২ ঘোপ মৌজায় এস এ-৫০৩, আরএস ৫২৩ খতিয়ানের আর এস ১৭৭০ দাগে তাদের ২৮.৬৯ শত জমি রয়েছে। একসময় মোশরফ হোসেন তাদের জমি ও স্থাপনার কেয়ারটেকার ছিলেন।
ওই সময় মোশরফ হোসেন ৬ শতক জমি জাল-জালিয়াতি করে ভুয়া দলিল তৈরি করেন। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলা চলমান রয়েছে। জমিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত সাইনবোর্ডও টানানো হয়।
অভিযোগকারী ফজলে রাব্বী আরও জানান, আদালতের বারণ থাকা সত্ত্বেও বিবাদীরা জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ সকালে ঘোপ জেলরোডস্থ কুইন্স হসপিটালের সামনে ওই জমির দোকানে তালা ভাঙার চেষ্টা করলে বাঁধা দেওয়ায় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ৩ জানুয়ারি যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২১৬) করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৯ মার্চ ২০২৬ রাতে জমিতে টাঙানো আদালতের নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড খোলার চেষ্টা করা হলে নিরাপত্তারক্ষী রানা গাজীর বাঁধার মুখে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ২০ মার্চ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়। তারপরও সম্প্রতি বিবাদীদের যোগসাজশে দুর্বৃত্তরা দুটি সাইনবোর্ড কৌশলে চুরি করে নিয়ে গেছে।
অভিযোগে মৃদুল (৩৫), ফজলে আরা জাহান (৬২), ফখরুক কবির বুলবুল (৬৫), শাহ্ আলম (৪০), মেহেদী হাসান রনি (২৬) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাদী ফজলে রাব্বী আরও জানান, ওই চক্রটি নানা ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করে আসছে। একাধিক পরিচয়পত্র দিয়ে জাল-জালিয়াতি করে জমির দলিল তৈরি, আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সেই জমি বিক্রির চেষ্টা করছে তারা।
বিবাদীরা প্রভাবশালী হওয়ায় যেকোনো সময় জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটাতে পারে বলে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ফজলে রাব্বীর অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই আনিস জানান, সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তিনি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
