বাংলার ভোর প্রতিবেদক
দুই দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে যশোরে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়া হলে আগামী ৬ জুলাই (সোমবার) থেকে দেশের সব শাখা ডাকঘরে অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দেন তারা।
শনিবার কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডাকসেবা সচল রাখতে শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা নানা সমস্যা ও বৈষম্যের শিকার। তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন হলে কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি ডাকসেবার মানও আরও উন্নত হবে বলে তারা দাবি করেন।
বক্তারা জানান, দুই দফা দাবি আদায়ে গত ১৭ ও ১৮ জুন ঢাকায় ডাক অধিদপ্তরের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। এরপর তিন দিনের কলম বিরতির কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৬ জুলাই থেকে দেশব্যাপি অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তারা আরও জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় মতবিনিময় সভা, ধর্মঘটের পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ এবং ৫ জুলাইয়ের মধ্যে নগদ অর্থ, খাম, ডাকটিকিট, রাজস্ব হিসাব সমন্বয় ও চিঠি-পার্সেল বিতরণের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৬ জুলাই থেকে প্রতিটি শাখা ডাকঘরের সামনে ধর্মঘটের ব্যানার টানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তারা বলেন, তারা সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান। তবে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান উদ্যোগ না এলে ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী ইউনিয়নের খুলনা বিভাগীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহানাজ পারভিন, জেলা সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রোজিনা, ঝিকরগাছা উপজেলা সভাপতি আলম,
শার্শা উপজেলা সভাপতি মো. আলী, কেশবপুর উপজেলা সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, মণিরামপুর উপজেলা সভাপতি বাবলু, বাঘারপাড়া উপজেলা সভাপতি আব্দুর রব, চৌগাছা উপজেলা সভাপতি মো. সুলতান, বারোবাজার থানা সভাপতি শ্রী প্রাণেশ, অভয়নগর উপজেলার প্রতিনিধি আল-আমিন, নড়াইলের প্রতিনিধি মো. রনি এবং বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার নেতৃবৃন্দ।

