নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের ওপর হামলা-মামলার আসামি জামিনে ছাড়া পেয়ে ১১টি বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের ছায়মানারচর গ্রামে গেলে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন।
এর আগে একই দিন সকালে ওই গ্রামে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সৃষ্ট ঘটনার পর ওই গ্রামে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় লাহুড়িয়া বাজারের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জনৈক শ্যামলের চায়ের দোকানে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই খোকন হাওলাদারের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় লোহাগড়া থানায় ১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি সোহাগ মোল্যা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে বেরিয়ে আসেন।
পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে অভিযুক্ত নেপুর মোল্যার নেতৃত্বে মনির, সোহাগ, আমিনুর, জামিনুর, আহাদ, ইলিয়াস, শিহাব, কাশেম মোল্যা, ইমদাদুল, মুসা মোল্যাসহ ৩০/৪০ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র রামদা, লোহার রড, ছ্যানদা নিয়ে মুসা মেম্বার, রাশেদ খান, আজিবার শেখ, হারুন মোল্যা, হালিম মোল্যা, মাজেদুল মোল্যা, জিয়াউর রহমানের বাড়িঘরসহ কমপক্ষে ১১টি বাড়ি ভাংচুর করে বাড়িতে থাকা সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়।
হামলার ঘটনার খবর পেয়ে লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইউপি সদস্য মুসা মোল্যা, হারুন মোল্যাসহ একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের প্রধান বলেন, মাদক বিরোধী অবস্থান নেয়ায় আমাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে অভিযুক্তদের সাথে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। যে কারণে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ খোকন হাওলাদার বলেন, বাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় জড়িতরা পুলিশের ওপর হামলার আসামি এবং এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি।
মাদক বিরোধী অবস্থান নেয়ায় তাদের ওপর হামলা ও বাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
