জাহিদুল কবির মিল্টন ও কাজী নূর
শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড হসপিটালের নাম নিয়েও বিভ্রান্তির অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ধরে নিয়ে অপচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে এটা ঢাকার পপুলারের শাখা। মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
হাসপাতালের ৭ জন অংশিদারের মধ্যে এক অংশিদারের নামে অনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ নারী কেলেংকারির অভিযোগ রয়েছে। ওই অংশিদারের বাড়ি ঘোপ এলাকায়। পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড হসপিটালের অনিয়মের অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে বাংলার ভোর পত্রিকায় তথ্যবহুল সংবাদ প্রচারের পর ওই অংশিদারের গায়ে জ্বালা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্লীল মন্তব্য করতে শুরু করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাপক অনিয়ম অব্যবস্থাপনার ভিতর দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে পপুলার মেডিকেল সার্ভিস এন্ড হসপিটালটি। প্রতিষ্ঠানটির নেই পরিবেশ লাইসেন্স, নেই ফায়ার লাইসেন্স, নেই সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এমনকি নেই স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্সও। এতো অব্যবস্থাপনার পরও পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস এন্ড হসপিটাল কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে এটাই যশোরবাসীর জিজ্ঞাসা।
প্রশ্ন উঠেছে তাহলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাজ কি? স্বাস্থ্য বিভাগ কি জেগে ঘুমাচ্ছে! না মোটা অংকের টাকায় তুষ্ট হয়ে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে! তাহলে যশোরে অবৈধভাবে পরিচালিত বেসরকারি হসপিটাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কে আইনগত ব্যবস্থা নেবে ? সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতালের মান তদারকি করতে সিভিল সার্জনদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য সব সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অথচ যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা এ সব নির্দেশনার কোন তোয়াক্কা করেন না।
পপুলার নামের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাবলিক রিলেশন অফিসার ওমর ফারুক বলেন, “পপুলার” নামটা আমাদের। কেউ কেউ এই নামটা ব্যবহার করে পপুলারে আগে পরে কিছু বাক্য যোগ করে সাধরণ মানুষ ও রোগিদেরকে বোঝাতে চায় এটা ঢাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শাখা। আমরা এ সব বিষয়ে একাধিকবার জিডি করেছি। কিন্তু প্রশাসন কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
