বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি, তারপর বিয়ে। এরপর পরিবারের বাবা-মা ও বোনের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। স্বামীর ঘরে থেকে নিজের বিয়ের তথ্য গোপন করে পুনরায় অন্য বিত্তশালী পুরুষের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি করা। নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে দেখা-সাক্ষাৎ, খাওয়াদাওয়া ও অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া। এরপর আবারও বিয়ের প্রস্তুতি। আর এই বিয়ের আগে পূর্বের স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে যৌতুক মামলার ভয় দেখিয়ে কাবিনের টাকা হাতিয়ে নিয়ে তালাক দেওয়া—এমনই অভিযোগ উঠেছে যশোরের বকচর এলাকার নূর মোহাম্মদ গাজীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মৌসুমীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ১০ থেকে ১৫টি বিয়ের কথা শোনা গেলেও ইতোমধ্যে ছয়টি বিয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অভিযোগ রয়েছে, যশোরের বকচর এলাকার প্রবাসী নূর মোহাম্মদ গাজীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মৌসুমী দেখতে-শুনতে ভালো ও মিষ্টভাষী হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিত্তবান ও সহজ-সরল পুরুষদের টার্গেট করতেন। প্রথমে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতেন।
বন্ধুত্ব থেকে প্রেমের সম্পর্ক তৈরির সময় বিভিন্ন সময়ে শহর কিংবা শহরের বাইরে একাধিক বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণ, একান্ত সময় কাটানো, উপহার ও নগদ অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সম্পর্কের বিশ্বস্ততা অর্জনের জন্য পরিবারের বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে প্রেমিক বা বিশেষ বন্ধুর পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ছিল একটি কৌশল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন মৌসুমীর বাবা প্রবাসী নূর মোহাম্মদ গাজী ও মা তাসলিমা খাতুন—এমন অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগ রয়েছে, মায়ের অনুরোধে বাবার মাধ্যমে প্রেমিককে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেওয়া হতো। আবার কখনো বিশেষ প্রয়োজনের কথা বলে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা চাওয়া হতো। সহজ-সরল প্রেমিক হবু শ্বশুর-শাশুড়ির কথায় আশ্বস্ত হয়ে প্রেমিকার হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দিতেন বলে অভিযোগ।
মৌসুমীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরবর্তীতে বিয়ের প্রস্তুতি চলত। প্রেমিকার আবদারে বড় অঙ্কের দেনমোহরে বিয়েও হতো। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকেই আবার নতুন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা শুরু করতেন মৌসুমী।
এদিকে চলতে থাকত স্বামীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার নানা কৌশল। স্ত্রীর পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো বলে অভিযোগ। টাকা নিতে নিতে একপর্যায়ে স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য কমে গেলে স্ত্রী বিভিন্ন অজুহাতে বাবার বাড়িতে চলে যেতেন। এরপর আর স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসতে চাইতেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলতেন স্ত্রী মৌসুমী। এসব অভিযোগের সাক্ষী হিসেবে তার মা তাসলিমা খাতুন, বোন, প্রবাসী বাবা এবং পরিবারের বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনকে হাজির করা হতো বলে অভিযোগ।
অভিযোগকারীদের দাবি, বিয়ের আগে ও পরে স্বামীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি আড়াল করে উল্টো স্ত্রী মৌসুমীর বাবা বিদেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে জামাইকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছেন—এমন অভিযোগ তোলা হতো।
মৌসুমীর অভিযোগ ছিল, টাকা না দিলে তার স্বামী তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমন নির্যাতন থেকে বাঁচতে তার বাবা বিদেশে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে অর্থ উপার্জন করেছেন, তার সবই স্বামীকে এনে দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করতেন। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করার হুমকি দিতেন বলে অভিযোগ। একই সঙ্গে কাবিনের টাকা পরিশোধ করলে তিনি নিজেই তালাক দেবেন বলেও চাপ সৃষ্টি করতেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
এমন পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে স্বামী কাবিনের টাকা দিয়ে তালাক নিতে বাধ্য হন বলে জানিয়েছেন মৌসুমীর ষষ্ঠ স্বামী।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে মৌসুমীর পূর্বের পাঁচ স্বামী ও একাধিক প্রেমিকের বিষয়ে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তার প্রথম স্বামী নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রী ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেও জানা গেছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মৌসুমী ও তার পরিবারের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে বাংলার ভোর।
বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে….
