আব্দুল কাদের, চৌগাছা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকশূন্য থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, গত ২/৩ মাস ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দরজায় তালা ঝুলছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার অসুস্থ রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে এসে চিকিৎসক না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে থাকা সরকারি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সরকারি অর্থে সরবরাহ করা এসব ওষুধ রোগীদের মাঝে বিতরণ না হয়ে নষ্ট হলে তা একদিকে যেমন রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়, অন্যদিকে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে দিনের পর দিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আমাদের জন্য করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকলে এবং মাসের পর মাস তালা ঝুললে আমরা কোথায় চিকিৎসা নেব? অসুস্থ রোগীদের দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত পাশাপোল উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত চিকিৎসক নিয়োগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি প্রতিদিন খোলা রাখা এবং সরকারি ওষুধ যথাযথভাবে রোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। অন্যথায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার এই দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হবে।

