বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
বর্ষার রিমঝিম ধারা, সুরের মূর্ছনা আর নৃত্যের নূপুরধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন। দেশের প্রাচীনতম সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুরবিতান সংগীত একাডেমির উদ্যোগে শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপি সাংস্কৃতিক আয়োজন।
প্রচলিত রীতি ভেঙে কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বা বক্তৃতা ছাড়াই সরাসরি সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। হাওয়াইন গিটারের মধুর সুরে পরিবেশিত হয় কালজয়ী গান ‘শাওন রাতে যদি মনে পড়ে মোরে…’।
শুরুতেই এই পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে
বর্ষার আবহকে কেন্দ্র করে সাজানো পুরো অনুষ্ঠানে ছিল সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মনোমুগ্ধকর সমন্বয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ পঞ্চকবির বর্ষাভিত্তিক কালজয়ী গান পরিবেশন করেন একাডেমির শিল্পীরা। প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে বর্ষার সৌন্দর্য, প্রকৃতির রূপ এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
সুরবিতান সংগীত একাডেমির প্রায় ১০০ জন শিল্পী এদিন বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নেন। একক ও দলীয় গান, আবৃত্তি এবং নৃত্যের সমন্বয়ে সাজানো আয়োজনটি উপভোগ করেন মিলনায়তনভর্তি দর্শক। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা বারবার করতালিতে মুখর করে তোলে পুরো মিলনায়তন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পরিবেশনা ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় বর্ষার গান ‘রিমঝিম রিমঝিম ঝরে শাওন ধারা…’। গানটির সঙ্গে পরিবেশিত মনোমুগ্ধকর দলীয় নৃত্য দর্শকদের বাড়তি উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করে।
সুরবিতান সংগীত একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট বাসুদেব বিশ্বাস জানান, দুই দিনের এই আয়োজনের প্রথম দিন বর্ষার গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দিন নতুন শিক্ষার্থী-শিল্পীদের অংশগ্রহণে একাডেমির নিয়মিত মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বর্ষার গানের বিশেষ আসর অনুষ্ঠিত হবে। দুই দিনের আয়োজনের মূল উপজীব্যই থাকবে বর্ষার সৌন্দর্য ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।

