রামপাল সংবাদদাতা
বাগেরহাটে রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বরকনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং নয়জনের মরদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত কনে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) মামা আবু তাহের বলেন, খুলনার কয়রা উপজেলার নাকশায় এদিন দুপুরে তার ভাগনির (মার্জিয়া) বিয়ে হয়। মার্জিয়ার শ্বশুরবাড়ি মোংলার শেলাবুনিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয় বরযাত্রীদের মাইক্রোবাসটি। রামপালের কাছাকাছি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মার্জিয়া, তার বোন লামিয়া ও নানী মারা গেছেন। আর বরসহ মারা গেছেন ৮ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর বাসটি বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়।
ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা গুরুতর।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কেএম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি ছিল মোংলা অভিমুখে। পথিমধ্যে বেলাইব্রিজ এলাকায় দুটি যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। আহত কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ এসেছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর দুজন পুরুষ। আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তিনিও মারা গেছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। রামপাল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

