বাংলার ভোর ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই দায়িত্ব গ্রহণ করায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারম্যান পদ শূন্য হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে গঠনতন্ত্র অনুসারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। এবার দলীয়ভাবে এ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তারেক রহমান নিজেই।
বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, “দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।”
তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মহল পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত চালাচ্ছে। তিনি জানান, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাবেক সদস্য সচিব মুছাব্বিরকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করছি এবং অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে দেশের নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” এ সময় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছিলেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এখন থেকে তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘চেয়ারম্যান’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন।
এদিকে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী যদি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত হন, তবে তিনি শুধু বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যানার, লিফলেট, হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে ব্যবহার করতে পারবেন। এসব ছবি পোর্ট্রেট আকারে হতে হবে এবং নেতৃত্বদান বা প্রার্থনারত ভঙ্গিমায় প্রদর্শন করা যাবে না। তবে পোস্টারে ছবি ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বিএনপির মহাসচিব।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকেই তার নেতৃত্বে দল পরিচালিত হয়ে আসছিল। চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।
