কাজী নূর
বৃষ্টি হচ্ছে রোজ, সবজির ক্ষেতে পানি, খাল বিল সব ডুবে একাকার। মাছ ধরার উপায় নেই। বৃষ্টিকে কারণ দেখিয়ে রোজ এমনিভাবে অস্থির হয়ে উঠছে নিত্যপণ্যের বাজার। থেমে নেই ডিম, মুরগির দাম। খামারেও পানি থৈ থৈ করছে, সরবরাহ কমের অজুহাত দিয়ে নেয়া হচ্ছে বাড়তি দাম।
সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি পরিবহন খরচ। তবে গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবচে বেশি বেড়েছে কাঁচামরিচের দাম। এমন পরিস্থিতিতে হাতে গোনা দু-একটি সবজির দাম কমায় বিক্রেতারা বলছেন, পরিস্থিতি অনুকূল আসতে সময় লাগবে। সব মিলিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
শুক্রবার যশোর শহরের হাজী মোহাম্মদ মহসিন রোড বড়বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে মানভেদে কাঁচা মরিচ ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা, বেগুন ১২০ থেকে ১৭০ টাকা, উচ্ছে ১২০ টাকা, কচুরমুখি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ টাকা, আমড়া ৪০ টাকা, কাঁচা কলা ৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, শষা ৮০ টাকা, ঢেরস ৬০ টাকা, সবুজ শাক ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ো ৫০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা, ধুন্দল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ওল ৮০ টাকা, কুশি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৮০ টাকা, ডাটা ৩০ টাকা, ফুলকপি ১২০ টাকা, বাঁধাকপি ৮০ টাকা, মিচুরী ১৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে। এছাড়া লাউ আকারভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
সবজি বিক্রেতা জয়দেব সাহা বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহের চেয়ে আজ সবজির দাম তুলনামূলক কম।
শহরের চৌরাস্তা এলাকার বাসিন্দা শেখ হাসান আব্দুল্লাহ বলেন, সবজির বাজারে আগুন। দু একটি সবজির দাম হয়তো কমেছে সেটি উল্লেখযোগ্য নয়।
মুদিপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেল কেজি প্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকা, সরিষার তেল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, পাম তেল থেকে ১৮১ থেকে ১৮৫ টাকা, সুপার তেল ১৮৮ টাকা, পোলাও চাল ১৭০ থেকে ২৩০ টাকা, আটা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, ময়দা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, মুগ ডাল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, মসুরির ডাল ১০০ থেকে ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বুটের ডাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সাদা চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকা, লাল চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, আলু ২৫ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, রসুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা ও আদা ১৪০ থেকে ২০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
কালীবাড়ি রোড এলাকার মুদিপণ্য বিক্রেতা মেসার্স হিমু স্টোরের স্বত্বাধিকারী গোপাল চন্দ্র ঘোষ বলেন, পোলাও চালের দামটা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কিছু কোম্পানি পোলাও চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে আড়াই কেজি সাইজের রুই মাছ ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা, দেড় কেজি সাইজের রুই ৩৫০ টাকা, ৮ থেকে ৯ কেজি সাইজের কাতলা ৮০০ টাকা, আড়াই কেজি সাইজের কাতলা ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা, পাঙাশ ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, ভেটকি ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা, বাইন ৭০০ থেকে ৮৪০ টাকা, বাটা ১৮০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, হরিণা চিংড়ি ৮০০ থেকে ৮৮০ টাকা, টেংরা ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকা, কৈ ২২০ থেকে ৬০০ টাকা, নাইলোটিকা ২৩০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।
মাছ বিক্রেতা মেহেরুল ইসলাম বলেন, তীব্র পানির কারণে জেলেরা মাছ ধরতে পারছেন না। পানি কমলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম কমবে।
শহরের পোস্ট অফিস পাড়া মুন্সী মিনহাজ উদ্দিন সড়কের বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, মাছের গায়ে হাত দেয়া দায়। আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষদের এই মুহূর্তে ব্রয়লার মুরগি শ্রেয়।
এদিকে ইলিশ মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে বর্তমানে, ১ কেজি সাইজের ইলিশ মাছ ২৩০০ থেকে ২৮০০ টাকা, ৭০০ গ্রাম সাইজের ২২০০ টাকা, ৩ পিসে ১ কেজি সাইজের ১২০০ টাকা ও ৪ পিসে ১ কেজি সাইজের ১০০০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
ইলিশ মাছ বিক্রেতা আলাউদ্দিন ব্যাপারী বলেন, চাঁদপুর, পাথরঘাটাসহ কোন মোকামে মাছ নেই। সরবরাহ না বাড়লে এ বছর ইলিশের স্বাদ অনেকের কাছে এবার অধরাই থেকে যাবে।
মুরগির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা ও লেয়ার ৩৭০ থেকে ৩৮০ টাকা বিক্রি হয়েছে।
বিসমিল্লাহ ব্রয়লার হাউসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ সুজন বলেন, খামারে যে পরিস্থিতি তাতে করে এই দামে মুরগি পাওয়ার কথা না। বাইরের জেলা থেকে মুরগি আসায় যশোরের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।
শহরের নতুন উপশহর বাবলাতলা এলাকার বাসিন্দা সাব্বির আহমেদ বলেন, বাবলাতলা বাজারের চেয়ে বড় বাজারে মাছ, মুরগি, সবজির দাম অনেক কম। রিকশা ভাড়া দিয়ে যাওয়া আসা করলেও সেটা উসুল হয়ে যাবে।
চালের বাজার চাল চান্নী ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে বাসমতি চাল কেজি প্রতি ৭২ থেকে ৭৬ টাকা, মিনিকেট ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, আটাশ ৫৫ টাকা, স্বর্ণা ৫০ থেকে ৫২ টাকা, সুবর্ণলতা ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, নাজিরশাল ৯০ টাকা, বিল আমন ৬০ টাকা ও পাইজাম ৪৯ টাকা বিক্রি হয়েছে।
নিউ মা কালী ভান্ডারের পরিচালক অভিজিৎ ভৌমিক বলেন, গত সপ্তাহে বেচাকেনা খুব খারাপ ছিল। আজ বেশ ভালো।
ডিমের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লাল ডিম হালি প্রতি ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা, সাদা ডিম ৪৪ টাকা, সোনালি মুরগির ডিম ৪৮ টাকা ও কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা বিক্রি হয়েছে।
কালীবাড়ী রোডের ডিম বিক্রেতা শেখ হাবিবুর রহমান বলেন, যশোরসহ আশপাশের অনেক ফার্মে ডিম উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। পানি কমলে পুনরায় সেসব ফার্ম চালু হবে। আপাতত পাবনা, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী অঞ্চলের ডিম আমাদের চাহিদা মেটাচ্ছে।
শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা ওষুধ কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্যের বাজার এখন গরম। ডিম ছিল মধ্যবিত্তের ভরসা। সেটিও নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

