ভিপি ইলিয়াস
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার কাটাখাল নামক স্থানে “বঙ্গবন্ধু পার্ক” আজও স্বনামে বিকশিত হচ্ছে। দীর্ঘ আট মাস পরও এ নাম পরিবর্তন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিকালে পৌর প্রশাসক নাভিদ সরোয়ার বলছেন, নিয়ম অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া যায় আমি সেটাই নিচ্ছি।
ঝিকরগাছা চৌগাছা সড়কের কাটাখাল নামক স্থানে দীর্ঘদিন ধরে “কাটাখাল পার্ক” নামে পরিচিত হয়ে আসছিল এই পার্ক। ২০১৮ সালে সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় এ জায়গাটিকে উন্নয়ন করা হয়। দুই ভাগে বিভক্ত পার্কটি প্রায় ৩৩ শতক জমির উপরে অবস্থিত। তিন মোহনায় অবস্থিত পার্কটির সুন্দর মনোরম পরিবেশে মানুষজন এখানে এসে বিশ্রাম নিয়ে থাকেন। এলাকার জনগণের স্বার্থে কাটাখাল পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। সিআরডিপি প্রকল্পের আওতায় পার্কটিতে মানুষের বসার স্থান তৈরি, পার্কের পাশে ফুট ওভার সেতু নির্মাণ, সেতুর রেলিং এসএস পাইপ দিয়ে নির্মাণসহ নদের ঢালে সিমেন্টের ব্লক দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলা হয়। নির্মাণ কাজ শেষে কাটাখাল পার্ক নামটি বদলে বঙ্গবন্ধু পার্ক নামে নামকরণ করা হয়। তারপর থেকে এটি ওই নামেই পরিচিত হয়ে আসছে।
দেশব্যাপি যেখানে শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের লোকজনের নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠানের নাম বদলানো হয়েছে। সেখানে ঝিকরগাছা “বঙ্গবন্ধু পার্ক” এর নাম আজও পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কাটাখাল পার্ক”টিকে সুন্দরভাবে তৈরি করার পর, সেখানে বঙ্গবন্ধু পার্ক নামে একটি সাইনবোর্ড দেখা যায়। অনেকে ধারণা করছেন এটা পৌরসভার তৎকালীন মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশে জামাল “কাটাখাল পার্ক” পরিবর্তন করে “বঙ্গবন্ধু পার্ক” নামে নামকরণ করেন।
বঙ্গবন্ধু পার্কটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সোমবার বিকেলে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঝিকরগাছায় “বঙ্গবন্ধু পার্ক” নামের কোন পার্ক আছে কিনা? তিনি জানান, এ নামের কোন পার্ক কোথাও নাই।
একই দিন ঝিকরগাছা পৌরসভার সচিব হাজরা জানান, “বঙ্গবন্ধু পার্ক” নামের কোন পার্ক আছে বলে আমার জানা নাই।
ওই দিনই পৌর প্রশাসক নাভিদ সরোয়ারের কাছে পার্কের বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া যায়, আমি সেটাই নিচ্ছি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, “বঙ্গবন্ধু পার্ক” সাইনবোর্ড দীর্ঘ আট মাস পরেও শোভা বর্ধন করায় এটাই প্রতীয়মান হয় প্রশাসনের মাঝে আওয়ামী প্রীতি এখনো অব্যাহত রয়েছে।