বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ফতেপুরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নড়াইল এক্সপ্রেস নামে যাত্রীবাহী একটি বাস সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বাসে থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী অক্ষত রয়েছে। তবে, বাসে থাকা যাত্রীদের সব মালামাল পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় আধা ঘন্টা পর বাসের আগুন পুরোটুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জানা গেছে, যশোর শহরের মণিহার এলাকা থেকে বাসটি ঢাকার উদ্দ্যেশে যাচ্ছিলো। বাসের যান্ত্রিক ত্রুটির কথা ড্রাইভার মালিককে জানালেও মালিক বিষয়টি কর্ণপাত করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দা লসকর রহমত বলেন, দুপুরের একটু পর যশোরের মণিহার থেকে অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নড়াইল এক্সপ্রেস নামে বাস ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেয়। যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর এলাকায় পৌঁছালে ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। এরপর বাসটিতে বিকট শব্দ হয়ে বন্ধ হলে যাত্রীরা প্রাণ বাঁচানোর জন্য এলোপাতাড়ি ভাবে বাস থেকে বের হয়ে যান। স্থানীয় যুব সমাজ রাস্তার যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে। যাত্রীদের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘন্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও বলেন, আমরা দাবি করি এই সব ফিটনেসবিহিন গাড়ি যেন রাস্তায় চলচল না করে। রাস্তায় যেন মানুষের জীবন না যায়।
আব্বাস আলী নামে অন্য একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রায় ৪০ মিনিট ধরে বসেটি আগুনে পুড়েছে। ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে। বাসে থাকা যাত্রীরা অক্ষত। তবে দরজা জানালা দিয়ে বের হতে গিয়ে অনেকে হাত পায়ে আঘাত পেয়েছে। কারো কারো হাত কেটেও গেছে।
মহেশপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে মণিহার থেকে গাড়িতে উঠা মো. হুসাইন জানান, আগুন লেগেছে জানার পর আমরা বাস থেকে দ্রুত নেমে পড়ি। কোনো যাত্রীর বড় ধরনের ক্ষয় ক্ষতি হয়নি। যেযার মত করে জীবনটা বাঁচিয়েছে। তবে, বক্সে থাকা সব মালামাল পুড়ে গেছে। যার হাতে যা ছিলো তাই নিয়ে নামতে পেরেছে। অধিকাংশ যাত্রী ঢাকায় যাচ্ছিলো। বাসে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলো।
রহিমা খাতুন নামে অন্য এক যাত্রী বলেন, মণিহারের সামনে থেকে গাড়িতে উঠেছি। এর আগে গাড়ির চাকা নষ্ট হয়েছিলো। কাউন্টারে এসে দেখি চাকা পরিবর্তন করেছে। পরে দাইতলা বাজারে এসে বিকট শব্দ হয়েছে। লোকজন বলছে গাড়িতে আগুন লেগেছে। আমরা যে যার মত দ্রুত বের হয়েছি।
যশোর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব অফিসার শেখ মজিবুর রহমান বলেন, প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছি যশোর থেকে বাসটি ছাড়ার আগে ড্রাইভার বাস মালিকদের বাসটির ত্রুটির কথা জানিয়েছিলেন। তারপরেও মালিকদের জোরাজুরিতে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেন। আমরা এসে প্রায় ৩০ মিনিট পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছি। এই বাসে থাকা কোনো যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। গাড়ি এবং গাড়িতে থাকা মালামাল পুড়ে গেছ।

