বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
পাঁচ শহীদ বিপ্লবী (কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলু)’র ৫৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ও জাতীয় ছাত্রদল যশোর জেলা কমিটি উদ্যোগে প্রয়াতদের সমাধিস্থল মণিরামপুরের চিনাটোলায় পুষ্পমাল্য অর্পন, শোক নিরবতা পালন ও শপথ পাঠ করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট জেলা কমিটির সহসভাপতি সমীরণ বিশ্বাস, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি মণিরামপুর উপজেলা কমিটির সহসভাপতি আশরাফ আলী, সাধারণ সম্পাদক আশিষ গাইন, জাতীয় ছাত্রদলের জেলা যুগ্ম-আহ্বায়ক মধুমঙ্গল বিশ্বাস সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
নেতৃবৃন্দ প্রয়াত শহীদ বিপ্লবীদের অসমাপ্ত জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবকে সম্পন্ন করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। নেতৃবৃন্দ বলেন, বিশ্বের একক পরাশক্তি ক্ষয়িষ্ণু সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার বাজার ও প্রভাব-বলয়-আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে প্রতিপক্ষ সাম্রাজ্যবাদী চীন-রাশিয়ার সাথে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের তৎপরতা চালাচ্ছে।
বৃহৎ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি হতে চলা চীন মধ্যএশিয়া থেকে ইউরোপ-আফ্রিকার দেশগুলোতে বাণিজ্য বিস্তৃতির লক্ষ্যে বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভ(বিআরআই) কর্মসূচি এবং মুক্তার মালা (স্ট্রিং অব পার্ল) নামে অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। চীনের এ পরিকল্পনা ঠেকাতে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ তার নৌশক্তির বৃহৎ অংশ দক্ষিণ চীন সাগরে মোতায়েনের লক্ষ্যে ‘পিভট টু এশিয়া’ কৌশল গ্রহণ করে।
এ প্রেক্ষিতে ‘চীন ঘেরাও’ কৌশল বাস্তবায়নে আমেরিকা ইন্দো-প্যাসিফিক রণকৌশল অগ্রসর করছে। নেতৃবৃন্দ বলেন, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাথে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনীতি-রণনীতি তথা সামগ্রিক লক্ষ্যের প্রেক্ষিতে বঙ্গোপসাগরীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের অতি বিশ্বস্ত দালাল সরকার মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে মানবিক করিডর প্রদানের তৎপরতা, একাধিক বন্দরের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশী কোম্পানির পরিচালনায় দেওয়াসহ জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী বিভিন্ন অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার অপতৎপরতা করা হচ্ছে।
সাম্রাজ্যবাদী দেশসমূহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের ক্ষেত্র হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ২৩ অক্টোবর (বাংলা ৬ কার্তিক) পাকিস্তানী শাসকদের এদেশীয় দোসর রাজাকার বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন কমরেড আসাদ, শান্তি, মানিক, তোজো ও ফজলু।
যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজার সংলগ্ন গ্রাম থেকে রাজাকাররা আটক করে বাজারের পাশ্ববর্তী হরিহর নদীর ব্রীজের উপর এই পাঁচজন বিপ্লবীকে হত্যা করে পৈশাচিক উল্লাসে শহীদদের মরদেহ নদীর জলে নিক্ষেপ করে।
