বাংলার ভোর প্রতিবেদক
সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে শিশুদের বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বর্তমানে আমরা অতিমাত্রায় ডিজিটাল ডিভাইসনির্ভর হয়ে পড়েছি। এর ফলে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অস্থিরতা ও নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে। তাই নতুন প্রজন্মকে আবার বইয়ের পাতায় ফিরিয়ে আনতে হবে।
শনিবার যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপি ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন যশোরের বাস্তবায়নে এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও যশোর ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় এ বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে আমাদের বাচ্চাদের বই পড়ার অভ্যাসে নিয়ে যেতে হবে। আমরা এখন ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। মোবাইল, কম্পিউটারসহ নানা ডিভাইস আমাদের জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার শিশুদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে আমাদের বইয়ের পাতায় ফিরতে হবে।’
তিনি বলেন, বই মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে, কল্পনাশক্তি বাড়ায় এবং জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। একটি ভালো বই একজন মানুষের চিন্তা ও জীবনবোধ বদলে দিতে পারে। শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে বইও তুলে দিতে হবে। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের জন্য নয়, একজন মানবিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতেও বই পড়ার বিকল্প নেই।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা কী পড়ছে, কী দেখছে এবং কীভাবে সময় কাটাচ্ছে—এ বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। প্রযুক্তিকে বাদ দেয়া যাবে না, কিন্তু প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আমাদের বই পড়ার অভ্যাসকে গ্রাস না করে। শিশুদের জন্য এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে তারা আনন্দের সঙ্গে বই পড়বে।’
তিনি বলেন, বইমেলা শুধু বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি মানুষের সঙ্গে বইয়ের সম্পর্ক তৈরি করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। একটি বইমেলায় শিশুরা যখন বিভিন্ন ধরনের বই দেখে, বই হাতে নেয় এবং পছন্দের বই বেছে নেয়, তখন তাদের মধ্যে পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে করা গেলে সমাজে পাঠাভ্যাস আরও বিস্তৃত হবে।
অনুষ্ঠানে যশোর ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোর ইনস্টিটিউটে আসার পর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিতে নতুন করে গতি ফিরে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর পর সাংস্কৃতিক মন্ত্রীও যশোরের ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়নে ৫০ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যশোর ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্য ধরে রেখে এর অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হবে। ইনস্টিটিউটের মাঠ ও ঘূর্ণায়মান মঞ্চ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি টাউন ক্লাবের উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বইমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি বিভিন্ন স্টলে প্রদর্শিত বইয়ের সংগ্রহ দেখেন এবং কথা বলেন। স্টলে ঘুরে ঘুরে বইয়ের ধরন, পাঠকের আগ্রহ ও মেলার সার্বিক পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বইপ্রেমীরা।
এরপর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ উদ্যোগে যশোরের ২ হাজার ৭৯১ জন অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ও অবসর তহবিলের অর্থ পেয়েছেন। এদিন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে একযোগে আইবিএসের মাধ্যমে দেশের অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অর্থ প্রদান করা হয়।
যশোরের ২ হাজার ৭৯১ জনের মধ্যে কল্যাণ তহবিল থেকে ১ হাজার ৮২৫ জনকে ৪৩ কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং অবসর তহবিল থেকে ৯৬৬ জনকে ৪৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। দুই তহবিল মিলিয়ে যশোরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা পেয়েছেন মোট ৮৭ কোটি ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভার্চ্যুয়ালে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

