প্রেস বিজ্ঞপ্তি
বাংলাদেশে শিশুর প্রাথমিক যত্ন ও বিকাশে (ইসিসিডি) অগ্রগতি হলেও প্রতিটি শিশুর সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যশোরে আয়োজিত এক আঞ্চলিক প্রচার ও মতবিনিময় কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন।
সোমবার যশোরে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিজিআইডি), বাংলাদেশ ইসিডি নেটওয়ার্ক (বিইএন) ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে ‘ সেলিব্রেটিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ : দ্যা ওয়ে ফরওয়ার্ড) শীর্ষক কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্থানীয় পর্যায়ের ইসিডি কমিটির সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। এতে শিশুর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, প্রারম্ভিক শিক্ষা, সুরক্ষা, প্রয়োজনীয় যত্ন এবং পরিবার ও কমিউনিটির সহায়তাকে সমন্বিতভাবে বিবেচনার মাধ্যমে শিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, ২০২২-২০২৬ মেয়াদে ‘ক্যাটালাইজিং হোল চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি উন্নয়ন ও একাডেমিক প্রতিষ্ঠান শিশুর সামগ্রিক বিকাশের কার্যক্রমকে জাতীয়ভাবে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। কর্মশালায় প্রকল্পের মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন-অভিজ্ঞতা তুলে ধরে দেশের ইসিসিডি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, শিশুর প্রাক-শৈশবের বছরগুলোতে যথাযথ যত্ন ও বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তার ভবিষ্যৎ সক্ষমতা ও সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়। এ ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষা বা স্বাস্থ্য খাতের পৃথক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিশুর সুস্থতা, পুষ্টি, শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং সামাজিক-মানসিক বিকাশকে একই কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আল মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়লেই ভালো অভিভাবক হওয়া যায় না; শিশুর বিকাশে অভিভাবকেরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর শিশুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাভাবিক বিকাশে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় গণমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উঠে আসে। বক্তারা বলেন, শিশুর সামগ্রিক বিকাশকে সর্বজনীন করতে গণমাধ্যমকে আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে ইসিডি কার্যক্রম শক্তিশালী করা এবং তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের শিশুদের সুস্থ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গঠনে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

