আসাদুজ্জামান রয়েল, মণিরামপুর
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এখন ভেঙ্গেচুরে জীর্ণশীর্ণ অবস্থা। তার ওপর ক্লিনিকের তিনপাশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে কচুরিপানায় ভরে রয়েছে। এ অবস্থায় ক্লিনিকে মাঝেমধ্যে সাপ উঠতেও দেখা যায়। তার পরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীর্ণশীর্ণ এই ক্লিনিকেই দেয়া হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা। তবে আশঙ্কা রয়েছে যেকোন মুহূর্তে ক্লিনিকটি ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পারে হতাহতের ঘটনা।
জানা যায়, উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারের দক্ষিণপাশে হাজিরহাট-নেহালপুর সড়কের পূর্বপাশে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে ৫ শতক জমির ওপর নির্মাণ করা হয় ক্লিনিকটি। সেই থেকে এই ক্লিনিকে পাঁচকাটিায়া, ভুলবাড়ীয়া, নেবুগাতি, কুচালীয়া, দিগঙ্গা এই পাঁচটি গ্রামের শিশু-নারীসহ প্রায় সাত হাজার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে দুই কক্ষের এই ক্লিনিকের দেয়ালের প্লাস্টার খসে খসে পড়ছে। তার ওপর কলাম, বিম ও ছাদে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। সেই সাথে তিন পাশে রয়েছে জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই ক্লিনিকের ভেতর পানি ভরে যায়। আবার ক্লিনিকের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে জলাবদ্ধতার কারণে ব্যাপকহারে কচুরিপানা জন্মেছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জীর্ণশীর্ণ ক্লিনিকে দেয়া হচ্ছে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা।
বর্তমানে এ ক্লিনিকের দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন কর্মী। এর মধ্যে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মিঠুন বিশ্বাস সপ্তাহে ছয়দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের এফডাব্লিউএ (পরিবার কল্যাণ সহকারী) তুলি রায় সপ্তাহে রোববার ও মঙ্গলবার এবং এইচএ (স্বাস্থ্য সহকারী) হাবিবুর রহমান শনিবার ও বুধবার ক্লিনিকে রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিয়ে থাকেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বেহালদশায় পরিণত হওয়া দুই কক্ষের ক্লিনিকে একটি কক্ষে সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। স্থানীয় অভিজিৎ মন্ডল নামে এক যুবক এসেছেন শরীরে জ্বর-ব্যথা নিয়ে। তাকে প্যারাসিটামলসহ আরও দুটি ওষুধ দেয়া হয়। অভিজিৎ মন্ডল চিকিৎসা পেয়ে খুব খুশি। কিন্তু হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আমাদের এই ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন যাবত ভেঙ্গেচুরে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তার ওপর এই বর্ষা মৌসুমে ক্লিনিকের ভেতর পানি উঠে গেছে। আবার দিগঙ্গা গ্রামের চুলকানির জন্য ওষুধ নিতে আসা গৃহবধূ লক্ষি রানী মন্ডল বলেন, একেতো ভাঙ্গাচুরা ক্লিনিকের ভেতর বসার জায়গা নেই, তার পর একমাত্র বাথরুমটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে নারী রোগীদের খুব সমস্যা হয়।
সিএইচসিপি মিঠুন বিশ্বাস জানান, বর্তমান ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা হয়। কিন্তু বর্তমান বর্ষা মৌসুমে বেহালদশায় পরিণত হওয়া এ ক্লিনিকের ভেতর পানি ওঠে। এমনকি মাঝে মধ্যে সাপসহ বিভিন্ন পোকা মাকড়ও ওঠে ক্লিনিকের ভেতর। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দেয়া হচ্ছে। তিনি জানান, ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে একাধিকবার অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফাইয়াজ হোসেন ফয়সাল জানান, নেবুগাতী কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, অতিশিঘ্রই ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
