সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরা সদরের বকচরা এলাকায় কোনো প্রকার টেন্ডার বা আইনি অনুমতি ছাড়াই বহুবছরের পুরোনো সরকারি গাছ কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ১০ নম্বর আগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলনের মৌখিক নির্দেশে এই গাছগুলো কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কাটা গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদরের বকচরা এলাকায় এলজিইডির রাস্তার দুই পাশে থাকা জেলা পরিষদের মালিকানাধীন ৩০-৩৫ বছরের পুরোনো ৪টি মেহগনি এবং ১টি শিমুল গাছ কেটে ফেলা হয়।
শুক্রবার দুপুর সাড়ে বারটার দিকে ভাড়াটে শ্রমিক এনে করাতের সাহায্যে গাছগুলো কাটা শুরু হয়। অভিযুক্ত স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম একটি মেহগনি ও একটি শিমুল গাছ এবং শাহাদাত সরদার ৩টি মেহগনি গাছ কাটেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জাকির হোসেন জানান, কোনো সরকারি প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই এই গাছগুলো কাটা হয়েছে। রাস্তা প্রশস্ত করার অজুহাতে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলন মৌখিকভাবে জাহাঙ্গীর ও শাহাদাতকে গাছ কাটার অনুমতি দিয়েছিলেন বলে তিনি জানান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি রাস্তার পাশের গাছ কোনো অনুমোদন বা টেন্ডার ছাড়া কাটা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ফরেস্ট অ্যাক্ট, ১৯২৭’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে সরকারি গাছ কাটার অপরাধে অর্থদণ্ডসহ সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
এছাড়া সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে দণ্ডবিধির ৩৭৯ ধারায় চুরির মামলা করারও বিধান রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ের বিশেষ বৃক্ষ কর্তন তদারকি কমিটির তদন্ত ও সরকারি দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমেই কেবল গাছ কাটার কার্যাদেশ দেওয়া সম্ভব।
গাছ কাটার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিলন বলেন, “আমি সরকারি গাছ কাটার কোনো অনুমতি দিইনি। আমি কেবল তাদের বলেছিলাম কাটা গাছগুলো জেলা পরিষদে পৌঁছে দিতে।”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ও শাহাদাত সরদারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস. এম. মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনাটি জানার পর জেলা পরিষদ থেকে সার্ভেয়ার পাঠিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে অবৈধভাবে গাছ কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

