সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্যারালাইজড এক বৃদ্ধসহ চারজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারপিট, ভাঙচুর ও মাছ লুটের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উৎকোচ দাবি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিপক্ষের দাবি, কাঙ্ক্ষিত টাকা না দেয়ায় সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, কালিগঞ্জের গণেশপুর গ্রামের রুহুল আমিন শেখ গত ২ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নে তার ১৬ বিঘা মৎস্য ঘেরে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে মামলাটি জিআর-৩১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বদলি হলে পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পান এসআই জহিরুল ইসলাম।
সাংবাদিক ইব্রাহিম খলিলের অভিযোগ, মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে তার বড় ভাই সাইফুল ইসলামের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তদন্ত কর্মকর্তা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ৮ জুলাই চার্জশিট দাখিল করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী সাগর হোসেনও টাকা দাবির অভিযোগ করেছেন। সাংবাদিক নাজমুল হুসাইন দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা ‘খরচ-খরচা’ দেয়ার কথা বলেছিলেন।
তবে চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮৫, ৩৮৬, ৪২৭, ৩৭৯, ৫০৬ ও ১১৪ ধারার অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ২০ হাজার টাকা আদায় এবং প্রায় তিন মণ চিংড়ি লুটের অভিযোগও রয়েছে।
আসামিপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পূর্ববিরোধের জেরে তাদের হয়রানি করতে মামলা করা হয়েছে। চার্জশিটে আসামির মায়ের নাম ভুল উল্লেখ এবং ৭৮ বছর বয়সী প্যারালাইজড আব্দুল কাদেরের শারীরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তারা।
অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও শ্যামনগর থানার ওসি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্টরা মামলাটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
