খান নাজমুল, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি খাদিজা নিম্নমাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে বাস্তবে ছাত্রী না থাকার অভিযোগ উঠলেও ৮৫ জনের নামে ৮৫ সেট সরকারি পাঠ্যবই উত্তোলনের তথ্য সামনে এসেছে। অথচ বিদ্যালয়ের নথিতে ১২২ জন শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছে।
বই উত্তোলন ও ফেরত নিয়ে প্রশ্ন
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ষষ্ঠ শ্রেণির ২৫ সেট, সপ্তম শ্রেণির ৩০ সেট এবং অষ্টম শ্রেণির ৩০ সেট বই উত্তোলন করা হয়। বাস্তবে ছাত্রী না থাকা সত্ত্বেও কাদের জন্য এই বই তোলা হলো এবং শিক্ষার্থীদের তালিকা ও স্বাক্ষর যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মুহাম্মদ (তেজারত) জানান, বইগুলো ফেরত নেওয়া হয়েছে। তবে ফেরত নেওয়ার কারণ বা সব বই এসেছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
শিক্ষার্থীশূন্য প্রতিষ্ঠানে বেতন-ভাতা ও উপবৃত্তি
বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রী উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও ৮৫ জন শিক্ষার্থীর অনুকূলে বই তোলা এবং ৮জন শিক্ষক ও ২জন কর্মচারীর সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান জানান, বিদ্যালয়টিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই এবং শিক্ষকেরা বসে থেকেই বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এছাড়া ভুয়া শিক্ষার্থীদের নামে উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও তার সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
শিক্ষা কর্মকর্তার ভূমিকা ও ঘুষের অভিযোগ
শিক্ষার্থীসংক্রান্ত তথ্য যাচাই ও তদারকির দায়িত্বে থাকা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর মুহাম্মদ (তেজারত)-এর বিরুদ্ধে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অব্যাহত রাখার বিনিময়ে ১৫ শতাংশ হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, অবৈধ সুবিধা নেয়ার বিষয়টি সত্য নয় এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক নীরবতা
এর আগে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের আল আজাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়। তবে শোকজের পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না বা সরকারি অর্থ নিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, নথিতে থাকা শিক্ষার্থীদের অস্তিত্ব, বই ও উপবৃত্তির হিসাব এবং বেতন-ভাতা উত্তোলনের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
