শ্যামনগর সংবাদদাতা
সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের অভিযানের মুখে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য আত্মসমর্পণ করেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় তারা কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
অভিযানকালে আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২৬৬ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের কার্তুজ ও গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গোলা, ৬টি ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়।
আটক ও আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন, খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬); সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) এবং বাগেরহাটের রামপাল থানার আজিজুর রহমান (৪৫)। তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে-বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।
কোস্ট গার্ড জানায়, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে পরিচালিত ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’-এর ধারাবাহিকতায় বাহিনীর সদস্যরা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে ২৯ জন দস্যুকে আটক এবং জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩৭ জন ডাকাত পূর্বে আত্মসমর্পণ করেছে।
জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সরকারি নীতি অনুযায়ী তাদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
