বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে পবিত্র জুমাতুল বিদা। শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লদের উপচে পড়া ভীড় দেখা গেছে। জুমার নামাজ আদায় শেষে দেশ জাতি, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। এর আগে, জুমার নামাজের আগে মসজিদের খতিবরা জুমাতুল বিদা ও পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরে ‘খুতবা’ প্রদান করেন।
শুক্রবার বেলা ১২ টার পরপরই জেলা শহর ও উপজেরার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের মসজিদগুলোতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। সবচেয়ে বেশি মুসল্লিদের দেখা যায় যশোর রেলগেট এলাকায় জেলা মডেল মসজিদ, কারবালা মসজিদ, কাঁঠালতলা, কালেক্টরেট মসজিদ, উপশহর বায়তুস সালাম মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে। এদিন ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ আদায় শেষে বিভিন্ন মসজিদে মোনাজাতে জানা-অজানা ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়। দেশ, জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং মারামারি, হানাহানি, খুন, গুম, নির্যাতন বন্ধে দোয়া করা হয়। তাছাড়া ফিলিস্তিনের উপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ এবং পবিত্র মসজিদুল আল আকসা পুনরুদ্ধারে মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করে দোয়া করা হয়।
ইসলামে রমজানের শেষ জুমার বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। এটি রমজানের শ্রেষ্ঠ দিন, আর রমজান মাসের সর্বোত্তম রাত লাইলাতুল কদর। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায়, রমজান মাসের শেষ শুক্রবার হজরত সুলায়মান (আ.) জেরুজালেম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন এবং মুসলমানদের প্রথম কিবলা ‘মসজিদ আল-আকসা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
কারবালা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা হবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিবছর কারবালা মসজিদে জুমাতুল বিদা নামাজ আদায় করতে আসি। শত শত মানুষ একসাথে নামাজ আদায় করে, খুব ভালো লাগে। এখনকার ব্যবস্থাপনা খুবই ভালো। দূরদূরান্তের মানুষ সকাল থেকে এসে ভিড় করেন। স্থানীয়রা নামাজ শুরুর আগে আসেন। নিয়ামত উল্লাহ নামে আরেকজন বলেন, আমরা একসাথে কয়েকজন এখানে নামাজ পড়তে এসেছি। আগে থেকে নিয়ত ছিল,কারবালা মসজিদে নামাজ পড়বো। অন্য জায়গা থেকে এখানে শত শত মানুষের সাথে নামাজ আদায় করা ভাগ্যের বিষয়।
মডেল মসজিদের আসা মুসল্লি আবুল হোসেন বলেন, রমজান মাসের শেষ জুমার নামাজ আদায় করলাম। এই দিনে আল্লাহর রহমত পাওয়ার মহাসুযোগ, তাই নামাজ আদায় করে আল্লার কাছে প্রার্থনা করেছি।
ইব্রাহিম, সাকিব ও আল আমিন জানান, প্রতিবছর জুমাতুল বিদা আদায়ে বিশাল জামাতের আয়োজন করা হয়। এখানে দিন দিন মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। অন্যান্য বছরের চেয়েও এবার জুমাতুল বিদার নামাজ আদায়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সুশৃঙ্খলভাবে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। খুব ভালো ভাবে মানুষ নামাজ আদায় করেছেন।