বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
দেশে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারের নতুন সময়সূচি কার্যকর হয়েছে। গত বুধবার থেকে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্দেশনার দ্বিতীয় দিনেই যশোর শহরে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পরও শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা ছিল। দোকানে জ্বলছিল বৈদ্যুতিক বাতি, চলছিল বেচাকেনা, ছিল ক্রেতাদেরও ভিড়।
সরকারি নির্দেশনায় শুধু দোকানপাট নয়, সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখার উপসচিব মো. মামুন ভূইয়ার সই করা বুধবারের বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়। এর আগে গত ১১ জুন থেকে শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি ছিল।
বিদ্যুৎ সংকট তীব্র হওয়ায় নতুন সময়সূচিতে এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।
নতুন এ সময়সীমা দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান ও অনুষ্ঠিতব্য মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এসব আয়োজনও রাত ৮টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তবে সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর যশোর শহরের মুজিব সড়ক, এইচএম রোড, এমকে রোড, দড়াটানা ও চিত্রা মোড় এলাকায় অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকতে দেখা যায়। পোশাকের দোকান, প্রসাধনীর দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন দোকানে তখনও বেচাকেনা চলছিল। অনেক দোকানের সামনে ক্রেতাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সময় কমিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে নির্ধারিত সময়ের পরও দোকানপাটে বাতি জ্বালিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, নির্দেশনা জারি হলেও তা কার্যকর করতে মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত তদারকি নেই।
মুজিব সড়কের পথচারী রাকিব হোসেন বলেন, ‘সরকার রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু রাত ৮টার পরও যদি দোকান খোলা থাকে, তাহলে নির্দেশনার বাস্তবায়ন কোথায়? নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’
এইচএম রোডের পথচারী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সরকার সময় নির্ধারণ করেছে। কিন্তু দোকানপাট খোলা থাকলে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।’
নাজমুল হক নামে আর একজন বলেন, ‘সরকারি সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে থাকলে হবে না, মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে হবে। ব্যবসায়ীদের যেমন নিয়ম মানতে হবে, তেমনি প্রশাসনকেও নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করতে হবে।’
সচেতন নাগরিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাত ৮টার পরও শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে দোকানের আলো জ্বলতে দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে-সরকারি নির্দেশনা আসলে কতটা কার্যকর হচ্ছে।’
নগরবাসীর মতে, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের নেয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও প্রশাসনÑতিন পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পর দোকানপাট খোলা থাকলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে সরকারি নির্দেশনার প্রতি মানুষের আস্থাও কমতে পারে।
তাদের দাবি, যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালিয়ে রাত ৮টার মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা বন্ধের নির্দেশনাও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

