জাহিদুল কবির মিল্টন ও কাজী নূর
যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত ‘পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটাল’-এর বিরুদ্ধে অনুমোদনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া, পরিবেশ ও ফায়ার লাইসেন্স না থাকা এবং অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযোগ উঠেছে, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক তদারকিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়নে নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।
অনুমোদনহীন পরিচালনা ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদনের মেয়াদ এক বছর আগেই শেষ হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতাল পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ফায়ার সার্ভিস সনদ (অগ্নি নিরাপত্তা) না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা না থাকায় খোলা বর্জ্যরে কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন। সেই সাথে পাশ্বর্তী ভৈরব নদে সরাসরি হাসপাতাল বর্জ্য ফেলার ফলে দূষিত হচ্ছে নদের পানিও। একই সাথে অতিরিক্ত ফি আদায় ও চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগও করেছেন চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা ও বর্তমান চিত্র
সম্প্রতি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করতে সিভিল সার্জনদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত চিঠিতে জানানো হয়:
জনবল কাঠামো: ৫০ শয্যার হাসপাতালে প্রতি শিফটে অন্তত ৫ জন মেডিকেল অফিসার (প্রতি ১০ শয্যায় ১ জন) রাখা বাধ্যতামূলক।
তথ্য প্রদান ও রোস্টার: প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার এবং নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা দিতে হবে।
আকস্মিক পরিদর্শন: ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও আকস্মিক পরিদর্শন চালাতে হবে।
অবহিতকরণ ও প্রতিবেদন: শর্ত অমান্য করলে আইনি ব্যবস্থা নিতে অধিদপ্তরে জানাতে হবে এবং প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মনিটরিং প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
তদন্ত ও আইনি অভিযানের দাবি
রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অধিদপ্তরের এই নির্দেশ কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হলেও যশোরে এর প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সত্ত্বেও পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কার্যালয় পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি যশোরের সিভিল সার্জন ব্যক্তিগত লাভের কারণেই এ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছেন। যদিও সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, অনিয়ম করে কেউ পার পাবে না।
এ অবস্থায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, অনতিবিলম্বে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তদন্ত দল পাঠিয়ে হাসপাতালের কারিগরি সুবিধা ও জনবল যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
