বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর শহরের পুরাতন কসবা মৌজায় সরদার স্টেটের একটি জমি নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে নির্মাণসামগ্রি রেখে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দাবি করা হচ্ছে দখলদারের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মানিক। সরদার স্টেটের মালিক সায়াদ হোসেন এ অভিযোগ করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সিরাজুল ইসলাম মানিক বলেছেন, তিনি কোনো পক্ষের হয়ে জমি দখল করতে যাননি; বরং বিরোধপূর্ণ জমিতে চলমান কাজ বন্ধ করতে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে, এ ঘটনায় দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সায়াদ হোসেনের অভিযোগ, শুক্রবার সুমন হোসেন ও আসাদুজ্জামানসহ কয়েকজন সিরাজুল ইসলাম মানিককে সঙ্গে নিয়ে ওই জমিতে যান এবং সেখানে ইট দিয়ে গাঁথুনির চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনাও ঘটে। এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জমি দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন সায়াদ হোসেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরতলীর আরবপুর এলাকার বাসিন্দা সায়াদ হোসেন পুরাতন কসবা মৌজায় পৈতৃক সূত্রে আরএস ৬০৬ ও ৬০৭ খতিয়ানের আরএস ৬০৫৮ দাগে ১৬৪ দশমিক ৫০ শতক জমির মালিকানা দাবি করছেন।
ওই সম্পত্তি নিয়ে যশোর সদর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি ৭৩/২৬ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে। মামলায় বিবাদীদের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। সায়াদ হোসেনের দাবি, নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও মামলার বিবাদী আসাদুজ্জামান, সুমন হোসেন ও রাজুসহ কয়েকজন ওই জমিতে ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রি রেখেছেন। এসব মালামাল সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলেও তারা তা করেননি বলে অভিযোগ তার।
শুক্রবার আসাদুজ্জামান, সুমন ও রাজুসহ কয়েকজন সিরাজুল ইসলাম মানিকের উপস্থিতিতে জমিতে যান। এ সময় মিলন, সেলিম, সিদ্দিক, মধু, জাহিদ ও হ্যাপিসহ আরও কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। জমিতে কাজ করা নিয়ে সায়াদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপর পক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি ও হট্টগোল হয়। সায়াদ হোসেনের পক্ষের লোকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করলে তা নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয় বলে তিনি দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, এ সময় তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম মানিক ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, দুই পক্ষের জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি নিয়ে সায়াদ হোসেনের পক্ষ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। খোকনের নির্দেশে তিনি নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি দেখতে শুক্রবার সকালে সেখানে যান। মানিকের দাবি, সেখানে গিয়ে তিনি দেখতে পান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও আসাদ পক্ষ ইট, বালুসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রেখে গাঁথুনির কাজ করছিল। তিনি ওই কাজ বন্ধ করে দেন এবং সেখানে রাখা ইট-বালুসহ নির্মাণসামগ্রী সরিয়ে নিতে বলেন।
এ সময় সায়াদ হোসেনের স্ত্রী তাদের ভিডিও ধারণ করলে তিনি এর প্রতিবাদ করেন। তবে জমি দখলের চেষ্টা, কোনো পক্ষকে সহযোগিতা কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
