আশাশুনি সংবাদদাতা
আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাজরা ইউপির তৎকালীন চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের প্রার্থী শাহনেওয়াজ ডালিমের হাতে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বাচ্চু বর্তমানে খাজরা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তিনি কোন কিছুকে তোয়াক্কা করতে চাইছেননা বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের শুরু থেকে সাইফুল ইসলাম বাচ্চু নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পরিষদের মেম্বাররা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন দিয়ে প্রতিকার প্রার্থনা করেন। কিন্তু ম্যানেজপটু হিসাবে পরিচিত বাচ্চু উপর মহলে দৌঁড়-ঝাপ করে সবকিছু উৎরিয়ে স্বপদে বহাল রয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে তিনি বিশেষ শক্তিতে পরিষদে অপরাধের রাজত্ব কায়েম করেছেন। এমনকি কয়েকমাস পরিষদে অনুপস্থিত থেকেও ক্ষমতার দাপটে দিব্যি বহাল তবিয়তে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছেন। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ সাইফুল ইসলাম বাচ্চুর বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। কিন্তু কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এছাড়া প্রকল্পের কাজে মেম্বারদের কাছ থেকে কমিশন নেয়ার প্রতিবাদে মেম্বাররা মানববন্ধন করলেও মেলেনি কোন সুফল।
আওয়ামী দুঃশাসন ও সৌর শাসনের সময় সাইফুল ইসলাম বাচ্চু ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তৎকালীন চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ ডালিম পদত্যাগ করার সময় ও পরে আওয়ামী কানেকশনকে কাজে লাগিয়ে ও বিভিন্ন কৌশলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদ আঁকড়ে রেখেছেন তিনি। এ অবস্থায় সেবা বঞ্চিতরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চুকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
খাজরা গ্রামের সজিব হোসেন জানান, কোরবানীর ঈদের পর থেকে এখনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু পরিষদে আসেননা। এলাকার মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন।
খাজরা ২নং ওয়ার্ডের নাগরিক বিল্লাল হোসেন জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বাচ্চু ৪ মাস পরিষদে আসেননা। একাধিকবার প্রত্যায়ন সহ অন্যান্য সেবা নিতে গিয়েছিলাম কিন্তু পাইনি।
সেবা নিতে আসা একই ওয়ার্ডের সুজন হোসেন বলেন, কোরবানীর পর থেকেই চেয়ারম্যানকে দেখিনি। খাজরার লোক বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ভোগান্তির মাত্রা বেড়েছে। তাকে দ্রুত অপসারণ না করলে খাজরার মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হতেই থাকবে।
সেবা নিতে আসা সাইফুল ইসলাম জানান, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু ৩/৪ মাস পরিষদে আসেননা। তার অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধন করলেও তাকে অপসারণ করা হয়নি। তিনি অনুপস্থিত থাকায় জনগণ ভোগান্তিতে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু জানান নিউজ করে কি হবে পদ তো আর যাবে না।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, আমি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
