নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইল সদর উপজেলায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী কিশোরী ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় অপহরণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের করা হলেও ওই কিশোরীর সন্ধান পায়নি পুলিশ। এদিকে আসামিরা পলাতক থাকায় উদ্বেগের মধ্যে সময় কাটছে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের।
বুধবার বিকেলে কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তাকে না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন পরিবারটির সদস্যরা।
নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর পরিবার জানায়, গত (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে নিজ গ্রাম থেকে ওই কিশোরীকে অপহরণ করা হয়। এ ঘটনার পরের দিন ওই কিশোরীর সহপাঠী এক ছাত্রকে প্রধান আসামি ও ওই ছাত্রের মা, বোন, ভগ্নিপতি ও প্রতিবেশী বন্ধুকে আসামি করে থানায় মামলা করেন কিশোরীর ভাই।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রায়ই ওই কিশোরীকে প্রেমের প্রস্তাব দিত সহপাঠী কিশোর। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই কিশোরীকে অপহরণের পরিকল্পনা করে সে। বিষয়টি কিশোরী তার পরিবারকে জানালে ওই কিশোরের মা, বোন ও ভগ্নিপতিকে জানালেও তারা অভিযোগ আমলে নেননি। বরং ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রেম করতে অভিযুক্ত কিশোরকে উদ্বুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে পরিবারের ইন্ধন এবং এক বন্ধুর সহযোগিতায় (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে ওই কিশোরী বিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে তাকে অপহরণ করে সহপাঠী ছাত্র।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অপহরণের পর থেকেই ওই কিশোরীকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্ত কিশোরের বাড়িতে গিয়ে সন্ধান চাইলে ওই কিশোরের মা ও বোন কিশোরীকে ফেরতের অঙ্গীকার করলেও কৌশলে কিশোরীকে নিয়ে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। একপর্যায়ে কিশোরীর পরিবারের সদস্যদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
এ বিষয়ে জানতে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে তালা মেরে আসামিরা পালিয়েছেন বলে স্থানীয় প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নড়াইল সদর থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, ‘ওই মামলায় এক আসামিকে আমরা গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছিলাম। অন্য দুজন আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে গত রোববার তিনজন (অভিযুক্ত কিশোরের মা, বোন ও ভগ্নিপতি) আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বের হয়ে এসেছেন। প্রধান দুই আসামির (এক নম্বর আসামি অভিযুক্ত কিশোর ও তার বন্ধু দুই নম্বর আসামি) অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে তাদের ধরা বা কিশোরীকে উদ্ধার করা যাচ্ছে না। আমরা তাদের খুঁজছি।
