বাংলার ভোর প্রতিবেদক
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মিছিল করেছে যশোর নগর বিএনপি। শনিবার জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করতে একাত্তর এবং চব্বিশের পরাজিত শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পরাজিত শক্তির ঐক্য দেখেছি। দেশের মানুষ এক পরাজিত শক্তিকে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে এবং আরেক পরাজিত শক্তিকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত করেছিল। এই দুই শক্তির ঐক্য আমরা নির্বাচনের পূর্বে দেখেছি, তাদের এই ঐক্য অনেক পুরাতন।
স্বৈরাচার এরশাদের হাত ধরে ১৯৮৬ সালে তারা দেশের মানুষের সাথে বেঈমানি করে নির্বাচনের অংশ নিয়েছিল। ঠিক একইভাবে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারকে অস্থিতিশীল করার জন্য ১৭২ দিনের হরতাল করেছিল এই দুই পরাজিত শক্তি। তাই এই দুই পরাজিত শক্তি সুযোগ পেলেই ঐক্যবদ্ধ হবে এটিই স্বাভাবিক। তাদের মুখে ফ্যাসিস্টের বিপক্ষে কোন কথা নেই। তারা বিএনপিকে নিয়ে কথা বলতে ব্যস্ত।
নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুল্লুক চাঁদের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক সেতু, নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুন্নাহার পান্না, নগর যুবদলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল বাশার সুজন, নগর ছাত্রদল নেতা নিয়াজ মাহমুদ শিশির প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের মানুষ গণতন্ত্রের বিজ বপণ করেছেন, সেই বিজ থেকে গণতন্ত্রের চারা গজিয়েছে। গণতন্ত্রের চারাকে সুরক্ষা দেয়ার দায়িত্ব বিএনপি নেতাকর্মীদের। দেশের মানুষ ধানের শীষ প্রতীককে সমর্থন দিয়ে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর আসন উপহার দিয়েছে। তাই সরকারকে সফল করতে দলের নেতাকর্মীদের দায়িত্ব রয়েছে, সেই দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ব্যর্থ হলে, দেশের অস্তিত্ব প্রশ্নের সম্মুখিন হবে। যারা কখনো দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্রের বিশ্বাস করেনি তারাই চায়না এই সরকার সফল হোক। তারা কারা? দেশে এবং দেশের বাইরে থাকা কেউ আমাদের অচেনা নয়। তাই সকলকে সর্তক দৃষ্টি রাখতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, আইন তার স্বাভাবিক গতিতে চলবে। সন্ত্রাসীদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে এবং মাদক কারবারিদেরকে মাদক কারবারি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা ধর্ম বিশ্বাসকে নিয়ে আসার কোন সুযোগ নেই। আওয়ামী লীগ যা করেছে, বিএনপি তা করবে না। যুবলীগ, স্বেচ্ছাসবক লীগ, ছাত্রলীগ যা করেছে, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলকে সেটি করতে দেয়া হবে না। কারণ আমাদের দায়িত্ব জনগণের প্রত্যাশা পূরণের। সেই কাজটি আমরা করার জন্য চেষ্টা করছি।
সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মাসুম। সমাবেশ শেষে প্রধান অতিথি অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মনিহারে গিয়ে শেষ হয়।
