বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের ভবদহ অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নদী রক্ষায় আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই কার্যকর ‘টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট’ (টিআরএম) বা জোয়ারাধার চালুর জোর দাবি জানিয়েছে ভবদহ পানি নিস্কাশন সংগ্রাম কমিটি। একই সাথে আগামী ৫ অক্টোবর ‘ভবদহ দিবস’ উপলক্ষে পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক গাজী আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কমিটির অন্যতম নেতা শেখর বিশ্বাস।
এ সময় জানানো হয়, গত জুলাই মাসের অতিবৃষ্টিতে ভবদহ জনপদের অভয়নগর, মণিরামপুর, কেশবপুর, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তিন মাস ধরে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম খাদ্যাভাব ও মানবিক বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পানির নিচে তলিয়ে আছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়।
সংগ্রাম কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ কিলোমিটার নদী সংস্কার কাজ চলমান থাকলেও টিআরএম চালু না হওয়ায় সে টাকা অপচয় হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদী কাটার পর পলি জমে তা দ্রুত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম)-এর প্রস্তাবনা অনুযায়ী মাঘী পূর্ণিমার আগেই (আগামী চার মাসের মধ্যে) একটি বিলে টিআরএম চালু না করা গেলে এবং আমডাঙ্গা খাল দ্রুত প্রশস্ত ও খনন না করা হলে এই জনপদের দুর্ভোগ কাটবে না।
সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে তুলে ধরা দাবিগুলো মধ্যে রয়েছে-
১. আগামী মাঘী পূর্ণিমার আগেই ভবদহ অঞ্চলে কার্যকর টিআরএম বা জোয়ারাধার চালু করা।
২. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমডাঙ্গা খালের বিস্তৃত পুনর্খনন, প্রশস্তকরণ ও জমি অধিগ্রহণের বাধা দূর করা।
৩. ভবদহ অঞ্চলের সকল নদী-খাল থেকে কচুরিপানা, নেট-পাটা ও কৃত্রিম বাঁধ অপসারণ করে পানিপ্রবাহ মুক্ত করা।
৪. ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর নওয়াপাড়ায় টিআরএম বিরোধীদের চক্রান্তে পানিবন্দি মানুষের আন্দোলন কর্মসূচিতে তৎকালীন পুলিশের হামলা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার করা।
এছাড়া চলতি মৌসুমে দ্রুত পানি নিস্কাশন করে জমি আবাদের উপযোগী করতে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সেনাবাহিনীর প্রতি ১০টি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে—পাঁচাকড়ি-রাজবংশীপাড়া ও টেকার বেইলি ব্রিজের পাশের বাঁধ অপসারণ, ভবদহের ২১ গেটের লোহার বেড়া অপসারণ বা দুই পাশ কেটে দেয়া, ৯ গেটের উৎস মুখ কাটা, ভবদহ কলেজ ও কপালিয়া ব্রিজের নিচের বাধা অপসারণ, শোলগাতি ব্রিজের পাকা ঢালাই সরানো এবং টেকা ব্রিজ থেকে অবশিষ্ট ৪ কিলোমিটার ভাসমান স্কেভেটর দিয়ে দ্রুত খনন করা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, দাবির বিষয়ে সম্প্রতি পানিসম্পদ মন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে এলাকা পরিদর্শনের আহ্বান জানানো হলেও এক মাসেও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এ অবস্থায় আগামী ৫ অক্টোবর বিকেল ৩টায় অভয়নগর উপজেলা চত্বর থেকে আমডাঙ্গা খাল পর্যন্ত পদযাত্রা ও সমাবেশের কর্মসূচি পালন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা তসলিম-উর-রহমান, সদস্য শিবপদ বিশ্বাস, সুকেন্দু বিশ্বাস, রাজু আহম্মেদ, বাসন্তী মণ্ডল, সঞ্জয় বৈরাগী, ভগিরত হালদার, আনন্দ বাবু, আব্দুর রওফ বিশ্বাস, মিরান তরফদার, আলমগীর হোসেন, আনিচুর রহমান ও সতীশ মল্লিক প্রমুখ।
