বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের মালিকানাধীন ‘জাবির ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘ দুই বছর তদন্ত শেষে এ মামলায় বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে শ্যোন অ্যারেস্ট (গ্রেপ্তার) দেখানো সাত আসামির অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। আদালত মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
মামলা থেকে অব্যাহতি চাওয়া সাতজন হলেন, আব্দুল খালেক (৬৫), এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও ইমন কাজী (২৬)। তারা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচিত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে যশোর শহরের চিত্রা মোড় এলাকার এমএম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে একদল দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে। অভিযোগে বলা হয়, তাদের কাছে গানপাউডার ও পেট্রোল ছিল। তারা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে।
এরপর হোটেলের মূল্যবান মালামাল লুটপাট করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রায় ১০০টি ফ্রিজ, ১০০টি স্মার্ট টেলিভিশন, ৪৫০ কিলোভোল্টের দুটি জেনারেটর, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল ও আসবাবপত্র, এক হাজার কিলোভোল্টের ট্রান্সফরমারসহ সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন ও ফায়ার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন সম্পদ।
লুটপাটের পর হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত গানপাউডার ও পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভয়াবহ ওই আগুনে হোটেলে অবস্থানরত ২৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে হোটেলের স্টাফ ও বোর্ডার ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকও ছিলেন।
ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ১৮ আগস্ট সাবেক সংসদ সদস্য শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই ও যশোর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, হোটেলের আলমারিতে রাখা শাহীন চাকলাদারের বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, স্টোরে থাকা বিভিন্ন মালামাল এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে যায়।
এছাড়া তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজার ডেকোরেশনসহ হোটেলের বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায়। আগুনে মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়, যার আর্থিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে তাদের কেউই হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ কিংবা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত-এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
