নড়াইল সংবাদদাতা
মাত্র এক মাস নতুন স্বপ্ন নতুন আশা নিয়ে এসেছিলেন স্বামীর ঘরে। আশা ছিল শ্বশুর-শ্বাশুড়ি-ননদ-দেবরকে নিয়ে বাকি জীবন সুখে কাটাবেন। যেখানে অর্থকষ্ট থাকলেও থাকবেনা সুখস্বপ্নের অভাব। তার কোন কিছুই আর হয়ে উঠলো না পপির জীবনে। তার আগেই নিভে গেল প্রাণ প্রদীপ। অভিযোগ উঠেছে স্বামীর নির্যাতনে মারা গেছেন পপি।
ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলায়। পপি খানম নামে ওই নববধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে সদর থনা পুলিশ। এ ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আরাফাত শেখকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে ওই বধূর শশুর বাড়ি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
স্থানীয় ও নিহতের শশুর বাড়ির লোকজন জানায়, সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের টিপু সুলতানের ছেলে আরাফাত শেখ পেশায় একজন ট্রাক চালকের সহকারী। স্থানীয়দের ভাষ্য এলাকায় তার নামে একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে এবং চুরির অপরাধে তিনি কয়েকবার ধরাও পড়েছেন। মাত্র এক মাস আগে বরিশালের মেয়ে পপি খানমকে তৃতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করে ঘরে তোলেন আরাফাত। মঙ্গলবার রাতে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ হলে পপিকে মারধর করেন তার স্বামী আরাফাত শেখ। পরে বুধবার সকালে আবারো ঝগড়া হয় তাদের, এসময়ও পপিকে মারধর করেন আরাফাত। এর জেরে ঘরে গঁলায় ওড়না পেঁচিয়ে পপি আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন তার শশুর বাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেন।
তবে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে আরাফাত শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে পুলিশ হেফাজতে নেয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নড়াইল সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
