বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষার হলের সংকীর্ণ পরিবেশে কয়েকজন শিক্ষক অকারণে বারবার শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে চলাচল এবং ছাত্রীদের শরীরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরীক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে পরীক্ষা চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে যেতে বাধা দেয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গ্রুপে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা, যশোর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে অর্নাস দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যশোর সরকারি এম এম কলেজের নয়টি বিষয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও আলহেরা ডিগ্রি কলেজ, যশোর কলেজ ও উপশহর ডিগ্রি কলেজের ২ হাজার ১২১ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
এই পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে গিয়ে নানা ধরণের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি কক্ষে বেঞ্চগুলো এমনভাবে সারিবদ্ধভাবে সাজানো যে চলাফেরার জায়গা নেই। অনেক কষ্ট করে সংকীর্ণ জায়গা দিয়ে চলাচল করতে হয়। সংকীর্ণ বেঞ্চের সারির মধ্য দিয়েই শিক্ষকরা খাতা স্বাক্ষর ও খাতা স্ক্যান করতে প্রবেশ করেন।
কয়েকজন শিক্ষক কোন প্রয়োজন ছাড়াই বার বার যাওয়া-আসা করেন। এসব শিক্ষকরা কয়েকজন ছাত্রীর শরীরে স্পর্শ করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ইচ্ছা করেই পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এসব হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এম এম কলেজ যশোর স্টুডিন্ট নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গ্রুপে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তারা এ ধরনের হয়রানি বন্ধ করার দাবি করেন। ফেসবুক গ্রুপে শিক্ষার্থীরা লিখেছেন, পরীক্ষার মধ্যে স্যারেরা অকারণে শিক্ষার্থীদের পাশে ঘেঁষাঘেষি করেন। ছোটখাটো ব্যাপারে পরীক্ষার মধ্যে অপমান করেন। অকারণে মেয়েদের শরীরে টাচ করেন। ইচ্ছা করে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেন। এসবের প্রতিবাদ করা প্রয়োজন ইত্যাদি।
ফেসবুক গ্রুপে এসব লেখায় নাজমুল হুসাইন হৃদয় নামে একজন এসবের প্রতিবাদে কমেন্টে বলেছেন, আপনারা (ছাত্রীরা) বোরকার জন্য যে বুরুজ ব্যবহার করেন। সেটা খুলে রাখবেন। কোন শিক্ষক শরীরে টাচ করলে বুরুজ ঢুকিয়ে দিবেন।
হ্যামবেল অ্যালপেস নামে এক আইডি থেকে কমেন্ট করা হয়েছে, ‘রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, বিচার করবে কে? যশোরের প্রতিটি কলেজে এই অন্যায়ের প্রতিবাদে মিছিলের প্রস্তুতি নিতে হবে।’ আল আমিন জীম নামে একজন লিখেছেন, ‘এরা নামে শিক্ষক। প্রকৃতপক্ষে মস্তিষ্কবিহীন।’
কানিজ ফাতেমা টুম্পা লিখেছেন, ‘কি আর বলবো। কোথাও শান্তি নেই, কোথাও মেয়েরা নিরাপদ নয়।’ শাহিলা তন্বি লিখেছেন, ‘মহিলা কলেজের শিক্ষকদের ব্যবহার খুবই জঘন্য। সামান্য বিষয়ে কেউ কিছু না বুঝলে খুবই বাজে ব্যবহার করেন।’ ১৭৪ জন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে কমেন্ট করেছেন।
অভিযোগের ব্যাপারে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষা আইনে কাউকে বাড়তি সুযোগ দেয়ার নিয়ম নেই। একটি মেয়ে পরীক্ষার্থী এ ধরণের মিথ্যা অভিযোগ করছেন। তিনি ছেলেদের পাশে বসে পরীক্ষা দেবেন না। আলাদা একটি রুমে একা পরীক্ষা দিতে চান।
পরীক্ষার হলে ডিউটির জন্য নারী শিক্ষক চান। তার এসব দাবি পূরণ করা সম্ভব নয়। পরীক্ষা আইনে কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। সেজন্যই মূলত তিনি বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে এসব লিখছেন।’
অধ্যক্ষ প্রফেসর নাজমুল হাসান ফারুকী বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ তার কাছে কোন শিক্ষার্থী করেননি। বিষয়টি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
