বাংলার ঘর গিহস্থলী ডেস্ক :
সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য রাতে ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। কিন্তু অনেকেই আট ঘণ্টা ঘুমানোর পরও সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি, অবসাদ কিংবা শরীর ভারী অনুভব করেন। এমন সমস্যা মাঝেমধ্যে হলে উদ্বেগের কারণ নেই। তবে নিয়মিত ঘটলে এর পেছনে থাকতে পারে দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাস।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন পাঁচটি অভ্যাস পরিবর্তন করলে ক্লান্তি কমতে পারে।
১. ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার
রাতে বিছানায় শুয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস দেখা, ভিডিও গেম খেলা কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের অভ্যাস ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। ফোনের উজ্জ্বল আলো ও উত্তেজনাপূর্ণ কনটেন্ট মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।
২. অনিয়মিত খাবার খাওয়া
সকালের নাশতা বাদ দেওয়া কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা অনেকের ক্লান্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত সময়ে শাকসবজি, ফলমূল, প্রোটিন ও আঁশসমৃদ্ধ সুষম খাবার খাওয়া জরুরি।
৩. পর্যাপ্ত পানি পান না করা
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও মনোযোগের অভাব দেখা দিতে পারে। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে কাজ করার সময় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। তাই নিয়মিত পানি পান করুন। প্রয়োজনে চিনি ছাড়া লেবুর পানি বা ডাবের পানিও খেতে পারেন।
৪. দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা
একটানা চেয়ারে বসে কাজ করলে পেশিতে অস্বস্তি ও ক্লান্তি বাড়তে পারে। তাই প্রতি ঘণ্টায় কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে।
৫. অতিরিক্ত চা-কফি পান
চা বা কফির ক্যাফেইন সাময়িক সতেজতা দিলেও অতিরিক্ত গ্রহণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে বিকেল বা রাতে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে গভীর ঘুম ব্যাহত হতে পারে। তাই দিনের শেষভাগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
এসব অভ্যাস পরিবর্তনের পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্তি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি কিংবা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার কারণেও পর্যাপ্ত ঘুমের পর ক্লান্তি থাকতে পারে।
মনে রাখবেন, শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তা নয়, ঘুমের মানও সুস্থ থাকার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
