বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সরকারি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল হাসানকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলায় জড়িত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দিয়েছেন ছাত্রদলের নেতারা। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের মণিহার চত্বরে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে বিক্ষোভকারীরা কলেজ ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের মাদক সেবন ও বিক্রির প্রতিবাদ করায় ফয়সাল হাসান ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধ, মাদকবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সমাবেশে কলেজের অধ্যক্ষ মোসাম্মৎ রেহানা পারভিন বলেন, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, এমন পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে কলেজ প্রশাসন সতর্ক থাকবে।
যশোর জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহ নাওয়াজ ইমরান বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের পাশে ছাত্রদল অতীতেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। ক্যাম্পাসে মাদকসহ যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান বলেন, ফয়সালকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নিজাম চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি রাকিব হাসান তন্ময় ও সহসভাপতি মিনহাজুল আবেদিন। এ সময় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বুধবার দুপুরে কলেজের পাশের একটি গলিতে ছুরিকাঘাতে আহত হন ফয়সাল হাসান পরে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মোল্লাপাড়া আমতলা এলাকার অঙ্কন (১৮) নামের এক তরুণের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফয়সালকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যশোর জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি দাবি করেছেন, কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রি ও ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ফয়সালের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
