সোহাগ হোসেন, বাগআঁচড়া
বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধ মনকে বিমোহিত করে। পাশাপাশি মধু মাসের আগমনী বার্তা দিচ্ছে আমের মুকুল। আম বাগানের সারি সারি গাছের প্রতিটা ডাল ছেয়ে আছে নব্য মুকুলে। এরপরও আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন যশোরের শার্শা উপজেলার বাগান মালিকরা।
মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আম গাছগুলো। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল এসেছে। সেই মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে ভাসছে সফলতার স্বপ্ন। দেশি জাতের আমের পাশাপাশি হিমসাগর, গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, মল্লিকা জাতের আম অন্যতম।
উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আম গাছে শোভা পাচ্ছে কেবলই মুকুল। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। মুকুলে ছেয়ে আছে গাছের প্রতিটি ডালপালা। চারদিকে ছড়াচ্ছে সেই মুকুলের সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ।
দেশের শস্যভান্ডার খ্যাত দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা যশোর এখন আমের জেলা হিসেবেও পরিচিত হয়েছে। যেদিকে তাকাই গাছে গাছে এখন শুধু দৃশ্যমাণ সোনালী মুকুলের আভা। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ার উপক্রম প্রতিটি গাছ। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে মধু আহরণে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে আসছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই এসেছে মুকুল। বাগান মালিক, কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা আশা করছেন বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে আমচাষি ও বাগান মালিকরাও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র শার্শা উপজেলায় ১ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে। এখানে আমচাষি রয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৮ জন। হিমসাগর আম ৩৩৭ হেক্টর, আম্রপালি ২১৫ হেক্টর, মল্লিকা ৩৫ হেক্টর, ল্যাংড়া ১৫৫ হেক্টর, গোবিন্দভোগ ৬০ হেক্টর, গোপালভোগ ১৫৫ হেক্টর, বুম্বাই ৫৯ হেক্টর, কাটিমন ৯ হেক্টর, বারি-৪ ২০ হেক্টর, বারি-১১-১ হেক্টর এবং দেশিয় আম রয়েছে ৩৪ হেক্টর। যশোর জেলার শার্শা, ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়।
উপজেলার কয়েকজন আমচাষি মুজিবার রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, আতিয়ার রহমান জানান, এবছর আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে পুরাপুরিভাবে মুকুল চলে এসেছে। ক্ষতিকারক পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাক্সিক্ষত ফলনের আশা করছেন চাষিরা।
শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার শাহা জানান, উপজেলার বিরাজমান আবহাওয়া ও মাটি আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমের উৎপাদন বিগত বছরের তুলনায় অনেক বেশি হবে। আবহওয়া অনুকূলে থাকায় এবার গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। তবে ছাত্রাকজনিত রোগেও আমের মুকুল-ফুলগুটি আক্রান্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আম চাষীদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।

