নড়াইল সংবাদদাতা
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় শাহনাজ আক্তার নামে এক গৃহবধু তার সৎ বাবা মনিরুজ্জামান ও মা ফাতেমা বেগমের প্ররোচনায় তার স্বামী সৌরভ দেওয়ান, শশুর নাজিম দেওয়ান এবং তার শাশুড়ি ও দেবরের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলা করেন।
এরপর ওই গৃহবধু তার ভুল বুঝতে পেরে বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে স্বামীর সংসারে ফিরে এসেছেন। রবিবার) বিকেলে ওই গৃহবধু তার স্বামীর ভাড়া বাড়ি উপজেলার মদিনাপাড়ায় ফিরে আসেন। এসময় শাহনাজ আক্তার বলেন, সৌরভ দেওয়ানের সাথে আমার বিয়ে হয়েছে সাত মাস। সাত মাসের সংসার আমাদের ভালোই চলছিল।
এর ভিতরে আমার মা এবং সৎ বাবা আমার শ্বশুরের কাছে টাকা ধার চায়। আমার শ্বশুর টাকা না দিতে চাইলে তারা আমার শ্বশুরের নামে মিথ্যা মামলা করে যে, তাদের থেকে চেক, স্বর্ণ এগুলা নেওয়া হয়েছে। এর আগে একটা মামলা চলছিল। এর ভিতরে হঠাৎ একদিন রাতে আমাকে মা বলে তোমার নানু অসুস্থ, ঢাকা হাসপাতালে ভর্তি, যেতে হবে।
নানুর অসুস্থতার কথা শুনে আমি যেতে রাজি হই। তারপর ওরা বলে আমরা একা যাবো না, পুলিশ নিয়ে আসবো। তারপর পুলিশ নিয়ে এসে শশুর বাড়ি থেকে আমাকে নিয়ে যায়। এরপর বাবার বাড়িতে নিয়ে আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক আমার স্বামী শশুর-শাশুড়ীসহ চারজনের নামে।
আমার শাশুড়ী সেই মামলায় জেল খেটে জামিনে আছেন আর আমার শ্বশুর এখনও জেলে। তিনি বলেন, আমার সৎ বাবা ও মা আমাকে মারধরও করে, সেই দাগও আছে। এরপর আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক মামলা করানো হয়েছে। এখন আমি বাবার বাড়ি থেকে পালিয়ে চলে এসেছি।
কারণ আমার গর্ভে সন্তান আছে, সেই সন্তানটা ওরা মেরে ফেলতে চাইছে। আমার সন্তানকে বাঁচানোর জন্য আমি পালিয়ে চলে এসেছি। আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে চাই, আর আমার স্বামীর সাথে, শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সাথে মিশে সংসার করতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম চলতি মাসের ৫ তারিখে।
এই ঘটনার পেছনে ৪-৫ জন ছিল, ওদের একটা চক্র আছে। আমি যে মামলা বাদী হয়ে করেছি সেটা আমাকে দিয়ে জোরপূর্বক করানো হয়েছে, আমি নিজ ইচ্ছায় করিনি। এখন আমি চাচ্ছি আমি আমার স্বামী সৌরভের সাথে সংসার করতে। এখন আমি সৌরভদের বাড়িতেই আছি। আমি গর্ভবতী।
আমি যে মামলাটা করেছিলাম সেটা আমি উঠিয়ে নিতে চাই। প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ, আমাকে আমার স্বামীর সাথে থাকতে দেওয়া হোক। এ ঘটনার পর শাহনাজ আক্তারের সৎ বাবা মনিরুজ্জামান ও মা ফাতেমা বেগম ওই গৃহবধুর শশুর বাড়িতে উপস্থিত হন। পরে শাহনাজ আক্তারের ফোন ছিনিয়ে নেন তারা।
এসময় শাহনাজের হাত কেটে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে সাংবাদিকরা সেখানে উপস্থিত হলে অভিযুক্ত দুইজন ফোন নেয়ার কথা স্বিকার করে বলেন, মোবাইল ফোনটি শাহনাজের নয় ফোনটি ফাতেমা বেগমের নিজের বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে শাহনাজকে দিয়ে জোরপূর্বক মামলা করানো ও তার গর্ভের সন্তান নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তারা।
পরে ঘটনাটি লোহাগড়া থানা পুলিশকে জানানো হলে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্ত মনরুজ্জামান ও ফাতেমা বেগম পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। এ ব্যাপারে তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
