বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যারা ঐক্য নষ্ট করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। তিনি বলেন, জনগণ দেশের পরাজিত শক্তিকে কখনো মাথা তুলতে দেবে না। তারা জাতীয় ঐক্যকে বিভাজিত হতে দেবে না। তাই আসুন সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একতাবদ্ধ থাকি এবং দেশকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করি।
শনিবার ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মুনশি মেহেরুল্লাহ ময়দানে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত র্যালি পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে শেষে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা অধ্যাপক নার্গিস এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) এবং বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে র্যালি বের হয়।
সমাবেশে অধ্যাপক নার্গিস বেগম আরো বলেন, একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের বীরত্ব দেখে পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের পর সিপাহী জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলো। খালেদ মোশাররফ গংদের হাতে দেশ এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব অনিরাপদ দেশের সিপাহী জনতা সেটি অনুধাবন করেছিলো। জিয়াউর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বুঝেছিলেন বিপদ তাদের দ্বারাই, যারা যুদ্ধের সময় বন্ধুর ছদ্মবেশে আমাদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলো। সে কারণে তিনি আধিপত্যবাধী শক্তির হাত থেকে দেশ রক্ষা করতে এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে নিরাপদ এবং নিষ্কন্টক করতে সমগ্র জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াক আধিপত্যবাদ শক্তি সেটি মেনে নিতে না পেরে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে।
তিনি বলেন, কোন বহিঃশক্তির কাছে এই দেশের মানুষ মাথানত করেনি। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশবিরোধী শক্তিকে বিদায় করেছি। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে হটানোর জন্য যারা একসাথে আন্দোলন করেছি; সেই ফ্যাসিস্টের অনুচররা আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ প্রতি মুহূর্তে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এই বিষধর সাপকে গর্ত থেকে মাথা তুলতে দেয়া যাবে না। জিয়াউর রহমানের যে অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি সকল মত, পথের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আঞ্জুরুল হক খোকন, নগর বিএনপির সাংগঠনিক মনিরুজ্জামান মাসুম, জেলা শ্রমিক দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবু জাফর, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব শিকদার সালাউদ্দিন, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাশিদা রহমান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম।
সমাবেশ শেষে অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মণিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমদ সিদ্দিকী বাচ্চু, সাবেক সহ সভাপতি অ্যাড. মোহাম্মদ ইসহক, সাবেক সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মিজানুর রহমান খান, এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলু, অ্যাড. আনিছুর রহমান মুকুল, সিরাজুল ইসলাম, নগর বিএনপির সভাপতি চৌধুরী রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ প্রমুখ।
