বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের মণিরামপুরে মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় রঞ্জন মন্ডল (৬০) নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মিঠুন ধর (৩২) ও আব্দুল হান্নান গাজী (৬৪)। রোববার বিকালে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার মিঠুন ধর মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া মধ্যপাড়ার বাসিন্দা। অপর আসামি আব্দুল হান্নান গাজী সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার দক্ষিণ ভাদিয়ালী গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, গত ৭ নভেম্বর মণিরামপুর উপজেলার মহিষদিয়া গ্রামের হেলারের ঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদী থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে স্বজনরা লাশটি কেশবপুর উপজেলার কালিচরণপুর গ্রামের রঞ্জন মন্ডল হিসেবে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় তার ভাতিজা দেবাশীষ মন্ডল বাদী হয়ে মণিরামপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্ত ভার পায় সিআইডি।
তদন্তে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের কললিস্ট (সিডিআর), বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে মিঠুন ধরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পায় সিআইডি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর দুপুরে রঞ্জন মন্ডল কাটাখালী বাজারে পল্লী চিকিৎসক মিঠুন ধরের চেম্বারে যান। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে তাকে কাচারীবাড়ী বাজারে সর্বশেষ দেখা যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
সিআইডির দাবি, ঘটনার পর মিঠুন ধরকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে তথ্য পাওয়া যায়, আব্দুল হান্নান গাজীর সহায়তায় তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি যশোরের একটি দল কলারোয়া থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মিঠুন ধরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও আংটি এবং লাশ বহনে ব্যবহৃত মিঠুনের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া কাটাখালী বাজারে মিঠুন ধরের দোকান থেকে রঞ্জন মন্ডলকে দেয়া ইনজেকশনের প্যাকেটও উদ্ধার করা হয়েছে বলে আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে মিঠুন ধরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়ার আবেদনও পৃথকভাবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
