মাগুরা সংবাদদাতা
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার বড়উদাস গ্রামের মাঠ থেকে উলঙ্গ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ওই নারীর নাম শিমা খাতুন (২৪)।
মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় মাগুরা জেলা পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বড়উদাস গ্রামের মাঠে শিমা খাতুনের মরদেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি সুজন শেখ (২৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বড়উদাস গ্রামের মাঠে জমিতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে মরদেহটি শিমা খাতুনের বলে শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিমা খাতুন স্বামীর বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর এলাকা থেকে শাশুড়ি জাহেরা খাতুন (৬০)-কে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ি বড়উদাস গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন।
গত সোমবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। কোলে থাকা দেড় বছরের শিশুটিকে ফুফুর কাছে রেখে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।
পরে রাতে আর ফিরে না আসায় ওই ফুফু বিষয়টি ভিকটিমের পরিবারকে জানান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সকাল আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে মোঃ জামাল শেখ (৬০) নিজের জমিতে কাজ করতে গিয়ে একজন মহিলার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন। পরে ভিকটিমের বাবা হাই জোয়ার্দার এসে মরদেহটি শনাক্ত করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া সুজন শেখ, পিতা: মরজেন মিয়া, মাতা: জাহেরা খাতুন; ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গোপালপুর (তিওড়দাহ কলোনি) এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি নিহত শিমা খাতুনের স্বামী। প্রায় সাত বছর আগে তাদের প্রেমের বিয়ে হয় এবং তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ ও পারিবারিক অশান্তি চলছিল।
এর জের ধরে সুজন শেখ কৌশলে তার স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে নিজের মায়ের সঙ্গে পাঠিয়ে দেয়। গত ৩১ মার্চ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ফোনে ডেকে নিয়ে শিমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

