♦ ৮ উপজেলায় মোট কেন্দ্র-১৯
♦ অংশগ্রহণ করছে ১৪৯৫টি প্রতিষ্ঠান
♦ মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা-১২২৭৮ জন
♦ ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী বেশি- ২১০৪
স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মেহেদি হাসান কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। জানুয়ারি মাসে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে। এখনও নতুন বইয়ের শোভাস নাকে আসে। প্রতিদিন সকালে পল্লী চিকিৎসক বাবা জিয়াউর রহমান স্কুলে দিয়ে আসেন। আবার রাতে দিয়ে আসেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাইভেট শিক্ষকের বাড়িতে। দিনের শুরুতে নতুন বই হাতে হাইস্কুলের বারান্দায় পা রাখলেও সন্ধ্যার শুরুতে পুরোনো ছেঁড়া বই হাতে যেতে হয় প্রাথমিক বৃত্তির প্রস্তুতি নিতে। একদিকে নতুন স্কুল, নতুন পরিবেশ, নতুন নতুন শেখার প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য পুরোনো বই নিয়ে এখনও নাড়াচাড়া। সব মিলিয়ে শিশুমনে নানা প্রশ্ন কেন হাইস্কুলে উঠেও প্রাথমিকের বই পড়তে হচ্ছে?
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ড. মোহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতায় থাকাকালিন নানা আইনি জটিলতায় ও দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য সময়মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্টিত হয়নি। যার কুফল হিসেবে বাড়তি মানসিক চাপ নিতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
কথা হয় মেহেদি হাসানের সঙ্গে। সে বলে, বৃত্তি পরীক্ষা দেবো বলে একটু চাপ হয়ে যাচ্ছে। একসঙ্গে দুই ক্লাসের বই পড়ছি। এত পড়া আর ভালো লাগে না।
মেহেদির বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, ক্লাস ফাইভে থাকাকালীন বৃত্তি পরীক্ষাটা হয়ে গেলে ভালো হতো। এখন বাড়তি খরচ হচ্ছে। তাছাড়া, বাচ্চাদের পড়াশোনার এত চাপ যে তারা একটু মানসিক প্রশান্তির জন্য খেলাধুলাও করতে পারছে না। আগে একবার পরীক্ষার সময় দিয়েছিল। এ দেশের যে অবস্থা, মাঝে মাঝে তো দেখি পরীক্ষার আগের দিন রাত ৩টার সময় ঘোষণা করে সকালের পরীক্ষা বন্ধ। এভাবে চলছে।
শুধু মেহেদি হাসান নয়, যশোর জেলায় মোট ১২ হাজার ২৭৮ জন শিক্ষার্থীর দিন আপাতত এভাবেই কাটছে। ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, এপ্রিল মাসের ১৫ থেকে ১৮ তারিখে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, এ জেলায় চলতি বছর মোট ১৯টি কেন্দ্রে ১২ হাজার ২৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কেন্দ্রের তালিকা ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যা চূড়ান্ত করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, যশোর সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রগুলো হলো, চুড়ামনকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পুলেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বালিয়াডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই পাঁচ কেন্দ্রে মোট ৩ হাজার ১৫৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে।
অভয়নগর উপজেলায় নওয়াপাড়া শংকরপাশা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মোট ১ হাজার ৩০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
কেশবপুর উপজেলার কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জেলায় এককভাবে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে।
চৌগাছা উপজেলায় মৃধাপাড়া মহিলা কলেজ, চৌগাছা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কংশারীপুর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ২৫৯ জন এবং ঝিকরগাছা উপজেলায় এম. এল. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বদরুদ্দীন মুসলিম হাইস্কুলে ১ হাজার ২৯০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসবে।
এছাড়া, বাঘারপাড়া উপজেলার দেহাকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টি.পি.এম. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯০০ জন, মনিরামপুর উপজেলার মনিরামপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও মনিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৬৯৫ জন এবং শার্শা উপজেলার শার্শা মডেল ও বাগআঁচড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১ হাজার ৮৬৭ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।
যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। মোট ১২ হাজার ২৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৫ হাজার ৮৭ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৭ হাজার ১৯১ জন।
যশোরের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জি. এম. আলমগীর কবির বলেন, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল যশোরে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। মামলা জটিলতার কারণে ২৫ সালের পরীক্ষা ২৬ সালে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আশা করছি সবার সহযোগিতায় পরীক্ষা ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হবে।

