বাংলার ভোর প্রতিবেদক
বহুমাত্রিক প্রতিভাধর এবং বিস্ময়কর এক নায়কের গল্প। বর্ণাঢ্য গল্পের সে ঝুলিতে যেমন রয়েছে নানা সৃজনশীল, বৈচিত্র্যময় কর্ম, তেমনি রয়েছে গবেষণালব্ধ সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি, অনুসন্ধিৎসু মনন। আরো আছে সমাজের আত্মিক দৈন্যতা ও অন্তর্নিহিত অসংগতি দূর করার প্রয়াসে তার শিল্প চাষের ধ্যান মগ্নতা ও কাব্যময় জীবনের শৌকর্য ও প্রকাশ রীতি যেন বিশেষ প্রেরণা, প্রশান্তি ও প্রাঞ্জলতার প্রতীক।
আবার এই মানুষটিই প্রিয় সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে শোককে শক্তি ও আজন্ম সৃষ্টি সুখের প্রেরণায় লিখেছিলেন, “এক বুক কান্না জমা ছিল/জানিনা কার অপেক্ষায়/মৃত্যুর সংবাদ যেই না এলো/ভরলো জল চোখের পাতায়।” বহুমাত্রিক এই গুণীজন একাধারে একজন সফল কবি, লেখক, গবেষক, গীতিকার, সংগীত পরিচালক, উপস্থাপক, আবৃত্তিকার ও নাট্যাভিনেতা যশোরের সন্তান কাসেদুজ্জামান সেলিম।
আজ ৭ এপ্রিল কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের ৬৪তম জন্মদিন। ১৯৬৩ সালের এই দিনে যশোরের নতুন উপশহরে পৈত্রিক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দেশবরেণ্য জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব প্রয়াত রফিউদ্দীন জিন্নাহ ছিলেন কাসেদুজ্জামান সেলিমের পিতা। গুণী এই ব্যক্তিত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপশহরবাসী তার নামে একটি প্রধান সড়কের নামকরণ করেছে।
আইনে স্নাতকোত্তর কাসেদুজ্জামান সেলিম পেশায় ব্যবসায়ী। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ অটো মোটর পার্টস আমদানিকারক ও খুচরা এবং পাইকারি বিক্রিতে স্বনামধন্য। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের তালিকাভুক্ত নাট্য শিল্পী, সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন কবি সেলিম।
চেতনায় স্রষ্টার অন্বেষণ, আধ্যাত্মিকতা, বহুমাত্রিক প্রকাশ রীতি, প্রান্তিকজন, শিক্ষানুরাগ, বন্যপ্রাণী, প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি দূরদৃষ্টি ও প্রেম, লোকজ ও সাংস্কৃতিক আত্মোপলব্ধি এবং তার নেতৃত্বের গুণাবলী আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের দলিল। শান্তি আর শুদ্ধতার প্রচ্ছদে কবি সেলিম নিরবে বুনে চলেছেন শিষ্ঠাচার, সৌভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা, পরমতসহিষ্ণুতা আর অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিজ। কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা কুড়িটির বেশি।
তার গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘আমাগের যশোর রে ভাই’ যা বৃহত্তর যশোরের আঞ্চলিক ভাষায় লেখা। এছাড়া ‘স্মরণে চিন্তনে-উপশহর, স্বর্ণবর্ণ যুগান্তকারী উদ্যোগ। তিনি সম্পাদনা করেছেন ‘সুবর্ণ লিরিক’, নৈকট্য, সোপান। তার প্রকাশিত গ্রন্থ: চিন্তার চাষ (বাংলার হাইকু) ‘শিশুদেরও বুড়ো আঙুল আছে’, ‘পাঁচ কুড়ি গান’, ‘গানের দোলা লাগুক প্রাণে’ ‘বিড়াল ছানার জন্মদিনে’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, উর্দু গজল বাংলায় রূপান্তর ও সুরারোপসহ ‘চাঁন্দকা রাশ্মি চাঁন্দনিমে’, ‘সুরের দেবাঞ্জলি’ এবং ‘কাসেদুজ্জামান সেলিমের রচনা সমগ্র’ (ইন্ডিয়া থেকে প্রকাশিত) উল্লেখযোগ্য।
কবি সেলিম শিল্প সাহিত্য ও সংগীতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয়, বিভাগীয়, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক, পুরস্কার ও গুণীজন সম্মাননা অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য সম্মাননা ও পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পদক, বাংলাদেশ কবিতা সংসদ পদক, বাংলাদেশ মানবাধিকার ফাউন্ডেশন পদক, ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান পদক, আলোকিত জয়ীতা অগ্নিবীণা, ব্যঞ্জন থিয়েটার পদক।
এছাড়া সংগীত ও নাট্যাভিনয়ের জন্য ভারত থেকে লেখক ও গুণীজন হিসেবে ‘চোখ পত্রিকা’ পদক ও ‘ইন্দো- বাংলা মৈত্রী’ পদক ও সম্মাননা গ্রহণ। তিনি প্রাচ্যসংঘ যশোর, মাইকেল মধুসূদন একাডেমির (সাগরদাঁড়ি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া লিরিক’র (শিল্প সংগ্রহশালা) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ঐতিহাসিক যশোর ইনস্টিটিউটের সাবেক সহ সভাপতি।
বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও আসন্ন ইন্সটিটিউট যশোরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবছর কবির জন্মদিনে থাকছে না কোন আনুষ্ঠানিকতা। তবে ব্যক্তিগতভাবে তাকে শুভেচ্ছা জানানো যাবে।

