বাংলার ভোর প্রতিবেদক
‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যথাযোগ্য মর্যাদায় যশোরে পালিত হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে যশোর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালিটি বের হয়। র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। র্যালিতে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। র্যালি চলাকালে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত প্লাকার্ড প্রদর্শন করা হয়।
র্যালি শেষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাকক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক রাসেল। প্রধান অতিথি ছিলেন, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার কোনো বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্যসেবা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া কোনো স্বাস্থ্য কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এজন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ব্র্যাক খুলনার ব্যবস্থাপক মহিতোষ রায়, যশোর সদর উপজেলার ব্র্যাকের ব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
দিবসটি উপলক্ষে যশোরে দিনব্যাপি বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় জেলার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রচার-প্রচারণা, লিফলেট বিতরণ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সুস্থ, সচেতন সমাজ গড়ে উঠবে।

