বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে বিয়ে, প্রতারণা, জিম্মি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন নড়াইলের এক নারী।
মঙ্গলবার সকালে যশোর প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন খালেদা খানম।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি নড়াইল জেলার বাসিন্দা এবং একজন স্বামী পরিত্যক্তা নারী।
কিছুদিন আগে যশোরে এসে পরিবহন ব্যবসায়ী ইসমাইল ভূঁইয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইসমাইল তাকে জানান, তার প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
ওই কথায় বিশ্বাস করে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিয়ের পর ইসমাইল মাঝে মাঝে নড়াইলে তার কাছে যেতেন এবং তিনিও যশোরে এসে স্বামীর সঙ্গে সময় কাটাতেন। সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল ফিতরেও তারা একসঙ্গে একটি বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যান। তবে এর কিছুদিন পর থেকেই ইসমাইল তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং অসদাচরণ শুরু করেন।
খালেদা খানম অভিযোগ করেন, গত ২৯ মার্চ বিকেলে ইসমাইল তাকে যশোর শহরের বকচর এলাকায় আসতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর তিনি আর যোগাযোগ করেননি। পরে ওই এলাকার মহুরি কামরুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তিনি বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন এবং তার মাধ্যমে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি আব্দুর রউফকে ডাকা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আব্দুর রউফ তাকে ইসমাইলের বাড়িতে তুলে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে তার কাছ থেকে কাবিননামা নিয়ে নগদ ৬ হাজার টাকা ও একটি সোনার আংটি নেয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর তাকে দুই দিন কামরুলের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। এ সময় তাকে জিম্মি করে ইসমাইলের সঙ্গে যোগসাজশে জোরপূর্বক একাধিক কাগজে স্বাক্ষর নিতে বাধ্য করা হয়। পরে তাকে হুমকি দিয়ে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয়।
পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ইসমাইল তাকে তালাক দিয়েছেন। এমনকি ৫ লাখ টাকার দেনমোহরের পরিবর্তে মাত্র ৫ হাজার টাকা উল্লেখ করে কাবিননামা ও তালাকনামা ডাকযোগে নড়াইলে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
খালেদা খানম জানান, এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদককেও জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুবদল নেতা আব্দুর রউফ, মহুরি কামরুল এবং ইসমাইল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে আপনাদের স্মরণাপন্ন হয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

