বাংলার ভোর ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ উপনির্বাচনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেযেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। তবে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ভোট পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল করিম।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ১৫০টি ভোটকেন্দ্রে মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ৯১ হাজার ৬১৬। বাতিল ভোটের সংখ্যা ১ হাজার ৭১০। ভোটের শতকরা হার ৪২ দশমিক ৫৮।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনজন প্রার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে বিএনপি মনোনীত রেজাউল করিম বাদশা ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৫৭ হাজার ১৫৯। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন তালুকদার পেয়েছেন ৫২৬ ভোট।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ভোট। তারেক রহমানের ছেড়ে দেয়া আসনে এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জামায়াত প্রার্থীকে হারিয়ে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, তিনবারের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মো. মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি পোস্টাল ভোটসহ মোট ১২৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মাসুদুর রহমান মাসুদ পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এ ছাড়া অপর প্রার্থী বাসদ মনোনীত মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন।
এর আগে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয় ভোট গ্রহণ। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫২.১৯ শতাংশ। বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৮৬ ভোট।
এদিকে এক সংবাদ সম্মেলনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে বেলা সোয়া ৩টার দিকে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। এ সময় তিনি কিছু কেন্দ্র থেকে তার এজেন্ট বের করে দেয়া, হুমকিসহ জাল ভোট দেয়ার অভিযোগ তোলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল বলেছেন, নিশ্চিত পরাজয় জেনে এসব অভিযোগ করছেন জামায়াত প্রার্থী। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।
১৭ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ৭৫১ ভোটকক্ষ ছিল। মোট ভোটার ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন।
এদিকে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছে। পুরো জেলায় ৩২টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য ও ১৩ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন।
এই আসনের দুটি উপজেলায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাচন কমিশনের ১৮ জন পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান (ইনকোয়ারি) কমিটির ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর ৮টি মোবাইল টিমে ২০০-এর বেশি সদস্য, ১৬ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ১৪টি টিম এবং পুলিশের প্রায় ১ হাজার ১৫০ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে এই আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে তার ছোট ভাই মাসুদুর রহমানকে প্রার্থী করে জামায়াত।

