সুমন ব্রহ্ম, ডুমুরিয়া
আমরা কোথায় যাবো, কোথায় থাকবো ? ঝড় উঠলে ছেলে মেয়ে নিয়ে পলিথিন জড়িয়ে রাত কাটাতে হয়। এমনই কথা বলছিলেন আবাসন থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো।
ডুমুরিয়া উপজেলার আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে নির্মিত ঘরে বসবাসকারীরা উচ্ছেদ হয়ে এখন দিশেহারা। সাথে কালবৈশাখী ঝড়ের আতংকে দিন যাপন করছে এই সকল লোকেরা। সরজমিনে উপজেলার চুকনগর আবাসন এলাকায় গেলে এমনই দৃশ্য চোখে পড়ে।
তথ্য নিলে জানা যায়, আবাসন প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলায় সহস্রাধিক ঘর নির্মাণ করা হয়। আবাসনের এই সকল ঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে মানা হয়নি কোন ধরনের নিয়ম। যদিও নিয়মে বলা হয়েছে প্রতিটি ঘরের জমি নির্বাচন করার জন্য নিস্কন্টক খাস জমি হতে হবে।
নিস্কন্টক জমি না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে জমি কিনে করার জন্য বলা হলেও কোন ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করে কোন কোন ক্ষেত্রে নদী ও খাল জমির শ্রেণী পরিবর্তন করে নির্মাণ করা হয় এই আবাসনের ঘর। অন্যদিকে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা এখন নদীর বুকে বিলীন। প্রত্যেকটি ঘরের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল ২ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা। জানা গেছে, বিগত সরকারের আমলে চুকনগরের ভদ্রা নদীর তীরে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে ১৪৫ টি ঘর।
প্রত্যেকটা ভূমিহীন পরিবারকে দেয়া হয়েছিল ২ শতক জমিসহ একটি বাড়ি। ইতিমধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য আপার ভদ্রাসহ মোট ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তার অংশ হিসেবে ভদ্রা নদী খননের ডিজাইন অনুযায়ী আবাসনের ঘরগুলো নদীর আওতায় পড়ে। এই সকল ঘরের লোকেরা এখন চুকনগর ফুটবল খেলার মাঠে কোন রকম ছাবড়া টানিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
এখন এই সব পরিবারের লোকেরা মাথা গোজার ঠাঁই খুজছে। কোথায় পাবে জায়গা কে দেবে থাকার মত একটু স্থান। প্রত্যেকটি অসহায় মানুষের মুখে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কথা বললে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি আসলে কোন রকমে স্বামী স্ত্রী বাচ্চা নিয়ে পলিথিন জড়িয়ে রাত পার করে বলেও জানান এই অসহায় পরিবারগুলো। শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি বলেন আকাশে এই ঝড় বৃষ্টির মধ্যে আমরা কোথায় যাবো।
আমাদেরকে সরকারের পক্ষ থেকেও কোন খোঁজ নেয় না। আমাদের রান্না করারও জায়গা নেই। তথ্য নিলে আরো জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ ও তৎসংলগ্ন জলাবদ্ধতা নিরাসনের (২য় পর্যায়) (১ম সংশোধনী) প্রকল্পের অধীনে ছয়টি নদী খননের কাজ চলমান রয়েছে। তার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা।
কথা বললে পাউবি যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন ডিজাইনে নদীর জায়গা দিয়ে নদী খনন করা হচ্ছে এটা বলতে পারি। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

