বাংলার ভোর প্রতিবেদক
চাঁদাবাজি, মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগে চৌগাছা থানার সাবেক ওসিসহ ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চৌগাছার মাকাপুর গ্রামের তামান্না নাজনীন লাভলী বাদী হয়ে এ মামলা করেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াজ অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপারকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী তাহমিদ আকাশ।
আসামিরা হলেন, চৌগাছা থানার সাবেক ওসি ও বর্তমান ফরিদপুর ভাঙ্গা থানার ওসি আনোয়ার হোসেন, চৌগাছা থানার সাবেক এসআই বর্তমানে ঝিকরগাছা থানায় কর্মরত মেহেদী হাসান মারুফ, চৌগাছা থানার এসআই হোসেন পাটোয়ারী ও এএসআই আব্দুর রহমান শান্ত।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, চৌগাছার মাকাপুর গ্রামের হায়দার আলী তার ওয়ারিশদের মধ্যে প্রায় ৪০ বিঘা সম্পত্তি ন্যায্যতার ভিত্তিতে বণ্টন করেন। এ জমির মধ্যে তামান্না নাজনীন লাভলীর কিছু জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন তার মেজ ভাই ব্যারিস্টার একেএম মোর্তজা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মোর্তজা তখন থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে ম্যানেজ করে লাভলী ও তার অপর ভাইবোন এবং আত্মীয়-স্বজনদের নামে মামলা করার পরিকল্পনা করেন।
২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল ওসি আনোয়ার হোসেন ও এসআই মারুফ থানায় দেখা করতে বলেন লাভলীকে। এদিন সন্ধ্যায় লাভলী তার স্বজনদের নিয়ে থানায় দেখা করতে গেলে ওসি আনোয়ার হোসেন তাকে তার কক্ষে নিয়ে লাভলী ও তার স্বজনদের মামলা দিয়ে জেল খাটানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। লাভলী ভয়ে ওসি আনোয়ার হোসেনের প্রস্তাবে রাজি হন। রাতে ওসি তার দুই সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে মাকাপুর মুকুট ঢালির পার্কের সামনে এসে লাভলীর কাছ থেকে চাঁদার ২ লাখ টাকা নিয়ে বাকি টাকা এক সপ্তাহের মধ্যে দিতে বলেন।
চাঁদার টাকা না দেয়ায় আসামিরা ৬ মে ওই পার্কের সামনে এসে লাভলীকে খুঁজতে থাকে। এ সময় লাভলীর ভাগ্নে সিয়ামকে পেয়ে তাকে ধরে ব্যাপক মারপিট করে আসামিরা। এদিন সন্ধ্যায় আসামিরা লাভলী ও তার স্বজনদের বাড়িতে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ৪০ বস্তা সিদ্ধ ধান লুট করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ধরে নিয়ে লাশ গুম করার হুমকি দেয় আসামিরা। এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ না করে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে পরিবেশ অনুকূলে আসায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।

